বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪ ২২:৪১ পিএম
বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের পুকুরপাড়ের বেশ কয়েকটি রেইনট্রি ও মেহগনির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রবা ফটো
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গাছ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকার গাছ স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সভাপতি শফিকুল ইসলাম আমেরিকা অবস্থান করছেন। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ফারুক হোসেন মল্লিক, মো. আবু জাফর ও হাবিবুর রহমান মৃধা বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকার গছ বিক্রি করেন। তারা পরস্পরের যোগসাজশে গত ১৪ ও ১৫ মে স্থানীয় নাসির ব্যাপারি নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে এসব গাছ বিক্রি করেন। এক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। এ ছাড়া গাছ বিক্রি সংক্রান্ত কোনো তথ্যই জানেন না শফিকুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চরাদি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেই সুযোগে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য মিলে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের পুকুরপাড় সংলগ্ন বিশালাকার বেশ কয়েকটি রেইনট্রি ও ১২টি মেহগনির গাছ বিক্রি করে দেন। এসব গাছের মধ্যে একটি রেইনট্রি গাছের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া মেহগনি গাছগুলো কেটে পুকুরপাড়ে রাখা হয়েছে।
বারেক হাওলাদার নামে স্থানীয় একজন বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ফারুক হোসেন মল্লিক করোনার সময়ে হলতা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তখন তিনি ১৩টি মেহগনি গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দেন। এখন আবার ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি গাছ বিক্রি করিনি। বিক্রি করেছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।’ অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের গাছপালা বিক্রির বিষয়ে আমার কোনো তদারকি নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখবেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষককে আর কোনো গাছ না কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই তারা বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করেছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’