চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ১৭:৩১ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৪ ১৮:১০ পিএম
পর্বতারোহী ডা. বাবর আলি। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১১ বছর পর মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ করে গত দুই দিন ধরে দেশের পাহাড় প্রেমিদের মাঝে আনন্দের কম্পন বাইয়ে চলেছেন ডা. বাবর আলি। দুইদিনের ব্যবধানেই এই পর্বতারোহী পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত ২৭ হাজার ৯৪০ ফুট উচ্চতার মাউন্ট লোৎসের শীর্ষে লাল সবুজের অলংকার এঁকে দিয়েছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি পর্বতারোহী যিনি মাউন্ট লোৎসে চূড়া স্পর্শ করলেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারির সন্তান বাবর আলি পেশায় একজন ডাক্তার হলেও বর্তমানে পুরোদস্তুর পর্বতারোহী।
মঙ্গলবার (২১ মে) নেপালের স্থা্নীয় সময় সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে বাবর আলি স্পর্শ করেন কাঙ্খিত লোৎসে পর্বত চূড়া। এভারেস্টের মতো এই সামিটেও বাবরের সঙ্গে ছিলেন তাঁর শেরপা সাথী বীর বাহাদুর তামাং।
এই অভিযানের পরিচালক প্রতিষ্ঠান স্নোয়ি হরাইজনের স্বত্বাধিকারী বোধা রাজ বান্ডারি এবং বেসক্যাম্পের ধর্মা তামাং এর দেওয়া তথ্যের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘লোৎসে সামিটের পর বাবর রেডিওতে সামিটের সংবাদ পাঠান বেসক্যাম্পে। বেসক্যাম্পের দায়িত্বশীলরা ওই খুশির খবর পৌঁছে দেন আমাদের কাছে।’
মূলত বাবর আলির এই অভিযানে মাউন্ট এভারেস্টের পাশাপাশি মাউন্ট লোৎসে শীর্ষে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এপ্রিলের শুরুতে দেশ ছেড়েছিলেন। বাংলাদেশের পর্বতারোহীরা ইতোপূর্বে মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে সামিট করলেও একই অভিযানে দুটি আট হাজারি পর্বত কোন বাংলাদেশি সামিট করেন নি। বাবর আলি জোড়া এই আট হাজারী পর্বতের (এভারেস্ট এবং লোৎসে) চূড়া স্পর্শ করে করেছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৯ মে এভারেস্ট সামিট করে ক্যাম্প-৪ এ ফিরে আসেন বাবর আলী। এতে সময় লেগেছে প্রায় ১৪ ঘন্টা। স্বাভাবিকভাবেই শরীরও হয়ে যায় ক্লান্ত। ছক আঁকা ছিল সারাদিন বিশ্রাম নিয়ে রাতে আবার শুরু করবেন লোৎসের উদ্দেশ্য যাত্রা। কিন্তু শরীরের অবস্থা বিবেচনা করে তিনি শেরপাদের ছককে নিজের মতো করে পরিবর্তন করেন। নিজেকে ঝুঁকি মুক্ত রাখতে ওই রাত তিনি থেকে যান ক্যাম্প-৪ এ এবং সয়ে নেন এভারেস্ট চূড়া অভিযানের ধকল। এদিকে ওই স্থানের সাথে যোগাযোগ বিভ্রাটে এই বিলম্ব নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা কল্পনা। বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পর গতকাল মধ্যরাতে শুরু করেন তার চূড়ান্ত লক্ষ্য মাউন্ট লোৎসের উদ্দেশ্যে যাত্রা।
সমন্বয়ক ফরহান জামান বলেন, ‘এখনো আমাদের অভিযান শেষ হয় নি। নিরাপদে বেসক্যাম্পে ফিরে এলেই আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারব। আশা করছি বাবর ২৩ মে এর মধ্যে বেসক্যাম্পে নেমে আসবে এবং আগামি ৩ জুন দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে তার।’