বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪ ২২:৫০ পিএম
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শোবার ঘরের দরজা ভেঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন মানিকের কর্মী শহিদুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে প্রার্থীর আরো সাতজন কর্মীর বাড়িঘর। গত রবিবার ভোর ৩টার দিকে উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত শহিদুল ইসলামের বাবা বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে বাগাতিপাড়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আনসার আলী উপজেলার হিজলি গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শরিফুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন। শরিফুল ইসলাম (আনারস) নাটোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের ভাই। মঙ্গলবার (২১ মে) এখানে ভোট হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক (মোটরসাইকেল) ও কর্মী শহিদুল ইসলাম নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রবিবার মধ্যরাতে সাতশৈল গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত তিনটার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন মুখোশধারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে অতর্কিতে হামলা করে। তারা শহিদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে যখম করে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সূত্র বলছে, শহিদুল ইসলামের ওপর হামলার কিছুক্ষণ আগে দুর্বৃত্তরা উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের জমসেদ আলী, নাজমুল হোসেন, পাঁচুড়িয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ও ইদ্রিস আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। বাড়ির লোকজনকে নিষেধ করা হয় ভোটকেন্দ্রে যেতে।
জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শরিফুল ইসলাম পরাজয় বুঝতে পেরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। একের পর এক হামলা চালাচ্ছেন আমার নেতাকর্মীদের ওপর।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো কর্মী কোনো হামলার সাথে জড়িত না। মূলত ভোটে পরাজিত হওয়ার গ্লানি ঢাকতেই প্রতিপক্ষ এসব মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’
বাগাতিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নান্নু খান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রধান সমন্বয়কারীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে জানিয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাছুদুর রহমান বলেন, হামলার সাথে যার সংশ্লিষ্টতা আছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।