লংগদুতে জোড়া খুন
রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪ ১৭:৩৪ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৪ ১৭:৪০ পিএম
সোমবার রাঙামাটির বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রবা ফটো
রাঙামাটির লংগদুতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) কর্মী ও সমর্থকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সড়ক ও নৌপথে ডাকা অর্ধদিবস অবরোধ পালিত হয়েছে। এ সময় সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সোমবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ইউপিডিএফের ডাকা এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে টায়ার ও গাছের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে এবং গাছ ফেলে পিকেটিং করতে দেখা গেছে অবরোধকারীদের।
ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের জেলার রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি যৌথ খামার ও বেতবুনিয়া এলাকা, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের সাপছড়ি, কুতুকছড়ি, ঘিলাছড়ি, বেতছড়ি সোনারাম কার্বারি পাড়া (১৮ মাইল) এলাকা, নানিয়ারচর সদরের টিএন্ডটি এলাকা, ঘিলাছড়ি-রামহরি পাড়া সড়ক এবং বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করতে দেখা গেছে। অবরোধ চলাকালীন জেলা সদর থেকে সড়ক ও নৌপথে দূরপাল্লার কোন যানবাহন ছেড়ে যায়নি।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ জানান, অবরোধকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় রাঙামাটির লংগদুর বড় হাড়িকাবা এলাকায় দুবৃর্ত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফের কর্মী বিদ্যাধন চাকমা ও সমর্থক ধন্যমণি চাকমা নিহত হয়। এই ঘটনায় ইউপিডিএফ সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করে। তবে জেএসএস এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় জেএসএসের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে।
এদিকে ইউপিডিএফ রাঙামাটি ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা এক বিবৃতিতে অবরোধ সফল করায় জেলার সকল বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক-শ্রমিক সমিতি, সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৯০০ সালের শাসনবিধি বা চিটাগাং হিলট্র্যাক্টস রেগুলেন বাতিলের সরকারের যে ষড়যন্ত্র তার বিরুদ্ধে এবং বান্দরবানে বম জাতিসত্তার উপর অন্যায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ যখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছে ঠিক সে সময় সন্তু লারমা তার বাহিনীকে দিয়ে লংগুদুতে ইউপিডিএফের এক কর্মী ও এক সমর্থককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে খুনের রাজনীতি বন্ধে সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণপূর্বক বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়।