× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

একরাম হত্যা

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৭ জনকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪ ১২:৫২ পিএম

একরামুল হক একরাম। ফাইল ছবি

একরামুল হক একরাম। ফাইল ছবি

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যাকাণ্ডের এক দশক পূর্ণ হলো আজ। ২০১৪ সালের ২০ মে একরামুল হক একরামকে ফেনীর বিলাসী সিনেমা হলের সামনে পুড়িয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দলেরই কতিপয় নেতাকর্মী। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে আদালত। 

পরে দণ্ডপ্রাপ্তরা এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলেও এর শুনানি এখনও কার্যতালিকায় আসেনি। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় ডেথ রেফারেন্সের শুনানিও আটকে আছে বছরের পর বছর। আলোচিত নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের রায় দীর্ঘ ১০ বছরেও কার্যকর না হওয়ায় নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ঘটনা ও মামলার রায় 

ফেনী জেলা জজ আদালত, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের গিরীশ অক্ষয় একাডেমির কাছে বিলাসী সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে গাড়ির গতিরোধ করে কুপিয়ে, গুলি চালিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয় একরামকে। ঘটনার রাতে তার ভাই রেজাউল হক বাদী হয়ে এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এ মামলায় তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ আগস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আলোচিত এ মামলায় গ্রেপ্তার ১৬ জন আসামি আদালতে ঘটনায় জড়িত ছিলেন মর্মে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৫৬ জন আসামির মধ্যে ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ ও ১৬ জনকে খালাস দেওয়া হয়। আরেক আসামি সোহেল রায় ঘোষণার আগেই র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। 

বর্তমানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৩৯ আসামির মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন ঘটনার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। অন্য ৮ জন আসামি জামিনে গিয়ে আত্মগোপন করেছেন। তাদের খোঁজ পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে এদের কয়েকজন দেশত্যাগ করেছেন বলেও তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।

আপিল করেছেন কারাবন্দি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামি 

বর্তমানে এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন ২২ আসামি। তারা সবাই খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। এরা হচ্ছেনÑ জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী সিফাত, আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. আজমির হোসেন রায়হান, মো. শাহজালাল উদ্দিন শিপন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে আজাদ, কাজী শানান মাহমুদ, মীর হোসেন আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, আরিফ ওরফে পাঙ্কু আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, মো. সোহান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন নয়ন, নিজাম উদ্দিন আবু, আবদুল কাইউম, নুর উদ্দিন মিয়া, তোতা মানিক, মো. সজিব, মামুন, রুবেল, হুমায়ুন ও টিপু।

জামিন নিয়ে পলাতক আট আসামি 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে জামিনে গিয়ে পলাতক আট আসামি হচ্ছেন ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম, এমরান হোসেন রাসেল, জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন অনিক, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আরমান হোসেন কাউসার ও জসিম উদ্দিন।

শুরু থেকেই পলাতক ৯ আসামি 

এ ছাড়াও এ মামলার পর থেকেই পালিয়ে রয়েছেন ৯ জন আসামি। তারা শুরু থেকেই পুলিশি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এরা হচ্ছেনÑ ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, রাহাত মোহাম্মদ এরফান আজাদ, শফিকুর রহমান, একরাম হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন আসিফ, মহিউদ্দিন আনিছ, টিটু ও বাবলু।

রায়ে খালাস পেয়েছেন যারা

মামলাটির রায় দেওয়ার সময় খালাস পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে রয়েছেনÑ বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার, পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার, আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ওরফে টুপি বেলাল, মো. আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন, আবদুর রহমান রউপ, সাইদুল করিম পবন ওরফে পাপন, জাহিদ হোসেন ভূইয়া, ইকবাল হোসেন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, কালা মিয়া, নুরুল আবসার রিপন, মো. ইউনুস ভূইয়া শামীম ওরফে টপ শামীম, মো. মাসুদ, কাদের ও ফারুক।

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন 

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, একরাম হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ৩-৪ জন আসামির সাজাপরোয়ানা ফেনী মডেল থানায় রয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের পরোয়ানাগুলো তাদের স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট থানায় রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সব সময় সোচ্চার ও সচেষ্ট থাকলেও তাদের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। 

ফেনী জেলা জজ কোর্টের পিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ‘মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, জব্দ তালিকা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেলা ও নিম্ন আদালতের রায় পর্যায়ক্রমে পেপারবুকে সাজানো থাকে। পেপারবুক প্রস্তুত না হওয়ায় আসামিদের আপিলের শুনানি শুরু হয়নি। কখন শুনানি শুরু হবে তাও বলা যাচ্ছে না।’ 

এদিকে নিহত একরামুল হক একরামের স্বজন ও দলীয় সহকর্মীরা জানান, দেশের আলোচিত প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের বিচার বর্তমান সরকারের সময়ে গুরুত্ব নিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরাম হত্যা মামলার রায় কার্যকরে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। 

নিহত একরামের ভাই মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা চাই সরকার দ্রুত এ রায় কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এবং উচ্চ আদালতেও নিম্ন আদালতের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে। এ রায় কার্যকরে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’ 



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা