নাটোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৪ ২০:৫৭ পিএম
প্রতিপক্ষের হামলায় আহত সোনাতন চন্দ্র নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রবা ফটো
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে গত ৪ মে সোনাতন চন্দ্র দাস (৫৬) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। এ ঘটনার ১৫ দিন পর নলডাঙ্গা আমলী আদালতে অভিযোগ দেন সোনাতনের স্ত্রী আগমনি দাস। অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৯ মে) সকালে আদালতের বিচারক সুমন আলী এই নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোছা. রাশিদা খাতুন।
তিনি জানান, ‘অভিযোগ আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত থানা পুলিশকে আগামী ২৬ মে এর মধ্যে এজাহার দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন।’
সোনাতন চন্দ্র নলডাঙ্গা উপজেলার গোয়ালঘাট এলাকার মৃত সতীশ চন্দ্র দাসের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে রাত ৮টার দিকে সোনাতন স্থানীয় ইমান বাজারে ধান বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোয়ালঘাট এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব বিরোধের জেরে একই এলাকার রনি (৩৫), তার সহযোগী আফ্রিদি (২৫), আশিকুর রহমান (২৫), তুষার (২২), আতাউর (৪৬), সোহাগ আলী (২৪) এবং রনজু প্রাং (৩৫) লোহার রড, হাতুড়ি, লোহার পাইপ, ক্রিকেট ব্যাট ও দেশীয় হাসুয়া দিয়ে সোনাতনের ওপর হামলা চালায়। এতে সোনাতন রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া তার পকেটে থাকা ৬০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
আগমনি দাস জানান, ‘ঘটনার পরে নলডাঙ্গা থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে রবিবার আদালতে অভিযোগ করি।’ এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে মামলার ১ নম্বর আসামি মো. রনির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ারুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশনার কাগজপত্র এখনও হাতে পাননি। পরবর্তীতে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এর সদুত্তোর দিতে পারেননি তিনি।