× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৬৪ শতাংশ ভোটার অনুপস্থিত প্রথম ধাপের নির্বাচনে

রাজু আহমেদ, রাজশাহী

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৪ ১৬:০২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে বগুড়া জেলায় আর সর্বোচ্চ জয়পুরহাটে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পরবর্তী তিন ধাপের উপজেলা নির্বাচনগুলোয় ভোটারদের কেন্দ্রে টানতে কৌশলী হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের শরিকদের দাবি, কালো টাকার ব্যবহার এবং নির্বাচন কমিশন সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভোটে জনসম্পৃক্ততা কম। এদিকে বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগের শরিকদের পাশাপাশি তাদের দলের প্রতিদ্বন্দ্বীরাই এখন ভোটের ফল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ভোটে রাজশাহী বিভাগের ২৩টি উপজেলায় মোট ভোটার ছিল ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৮ জন। যাদের মধ্যে ভোট দিয়েছে ১৭ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৪ জন। শতকরা হিসাবে ৩৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও গাবতলীÑ তিনটি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই তিন উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু সোনাতলায় পড়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ। 

এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরÑ এই তিন উপজেলায় ভোট পড়েছে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। নাটোরের সিংড়া, নলডাঙ্গা ও সদর উপজেলায় ভোট পড়েছে ৩২ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া ও সুজানগরে ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভেরাহাট, গোসন্তাপুর ও নাচোলে ভোট পড়েছে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোরে পড়েছে ৪৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। নওগাঁর বদলগাছী, ধামইরহাট ও পত্নীতলায় ভোট পড়েছে ৪৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। এবং জয়পুরহাটের কালাই ও ক্ষেতলালে ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রাজশাহী জেলার ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ পরামানিক বলেন, যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তারা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থী। এসব প্রার্থী নিজেদের মধ্যেই ভাগবাঁটোয়ারা বা সমঝোতা করে নির্বাচন করছে। এখানে জনগণের সম্পৃক্ততা খুবই কম।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনে আমাদের দলের অংশগ্রহণ নাই। কারণ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ধরা হয়েছে লাখ টাকা। এখনকার নির্বাচন গরিব মানুষের হাতে নাই। যার হাতে কালো টাকা আছে তাদের জন্য নির্বাচন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে লিখিত দিয়েছিলাম যাতে জামানতের টাকা কমানো হয়।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশের ভোট এখন অটো পারসেনটেজ হয়ে যায়। ব্যালেন্স করে অনেক সময় পারসেনটেজ বাড়ানো বা কমানো হয়। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যেমনটা উৎসবমুখর পরিবেশে হওয়ার কথা ছিল তা হচ্ছে না। ভোটারের সংখ্যা আরও বাড়ত যদি সব দলের অংশগ্রণ থাকত।

জাসদের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী বলেন, ভোটে কালো টাকা, পেশিশক্তিসহ অন্য বিষয়গুলো কাজ করছে। প্রশাসনও এর সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত। ভোটাধিকার প্রয়োগেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও একই চিত্র ছিল। এখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও এসব অভিযোগ করছেন। বিচ্ছিন্নভাবে কারচুপি হচ্ছেই। এসব কারণে আমরা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিইনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ভোটার উপস্থিতির যে হিসাব দেখানো হচ্ছে, তার প্রকৃত পরিসংখ্যান আরও কম। এসব ভোটে আমাদের পর্যবেক্ষণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশেরও নিচে। তারা ভোটার সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। তবে প্রকৃত সত্য, সাধারণ মানুষ ভোট বর্জন করেছে। আওয়ামী লীগের নিজেদের অনেক প্রার্থীও এসব বলছেন। তারাই বলছেন, এমপির প্রার্থীকে ভোট না দিলে কেন্দ্রে যাবার দরকার নাই।

উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের পর রাজশাহী-১, রাজশাহী-৫, রাজশাহী-৬ আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই বলেছেন, তাদের ভোট চুরি হয়ে গেছে। মানুষ ভোট দিতে আসেনি, ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখানো হয়েছে। এসব বিষয় তুলে ধরে ভোটের পরে তারাই জনসমক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী বিভাগের আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, বিএনপি ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ করে আসছে। তারা মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা বিষয়টিকে নজরে নিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করছি। ভোটাররা ভোট দিতে যাচ্ছে। তাদের ভেতর আস্থা ফিরে আসছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, কেবল প্রথম ধাপের নির্বাচন হলো। সেখান থেকে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে না। আরও তিন ধাপের নির্বাচন আছে। যারা প্রার্থী হয়েছেন, তারা ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রথম ধাপে ভোটের দিন রাজশাহীতে প্রচণ্ড দাবদাহ ও গরম ছিল। এ কারণেও ভোটার কিছুটা কম হতে পারে। আশা করছি, ২১ ও ২৯ মে এবং ৫ জুন ভোটার সংখ্যা বাড়বে, যা ৫৫ শতাংশের কাছাকাছি যাবে বলে আমরা আশা করছি।

আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগে মোট ভোটার ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ১০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৭ লাখ ১ হাজার ৩৭৩ জন। বিভাগে মোট ৮টি জেলায় উপজেলার সংখ্যা ৬৭টি। ৪ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৫টি।

দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে ১৯ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে মোট ভোটার ৩৯ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩০ জন। তৃতীয় ধাপে ১৪ উপজেলায় ২৯ মে ভোট হবে। যেখানে ভোটার রয়েছে ৩৬ লাখ ৫২ হাজার। সবশেষ চতুর্থ ধাপে ১০টি উপজেলায় নির্বাচন ৫ জুন। যেখানে ভোটার ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩১ জন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা