এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ১৬:২২ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৪ ১৬:৩০ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণেমাটি পরীক্ষার কাজ করেন শ্রমিকরা। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ-শরণখোলার দুই উপজেলার প্রায় মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি পানগুছি নদীতে সেতু নির্মাণ। সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে গত ৮ মে থেকে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, চলতি বছরের শেষের দিকে মূল সেতুর কাজ দৃশ্যমান হবে।
দেশের দক্ষিণে সুন্দরবন ঘেঁষা উপজেলা মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা। সড়কপথে এই দুই উপজেলায় যোগাযোগে সবচেয়ে বড় বাধা পানগুছি নদী। দক্ষিণাঞ্চলের স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়কপথে শরণখোলা যেতে এখন শুধু এই নদীতে ফেরি পার হতে হয়। এই নদীতে সেতু নির্মাণ হলে এ এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। ফেরিতে দীর্ঘ সময়ে যানজটের ফলে একদিকে নষ্ট হয় কৃষকের ফসল, চিংড়ি মাছ, ফলসহ কাঁচামাল। অন্যদিকে দূরপাল্লার পরিবহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে থাকতে হচ্ছে। এ ছাড়া নৌকা ও ট্রলারে নদী পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে যাত্রীদের।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে পানগুছি নদীতে প্রায় অর্ধশত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ প্রায় ৭০/৮০ জন যাত্রী নিয়ে এ নদী পার হতে গিয়ে ট্রলার ডুবে নারী ও শিশুসহ ১৯ জন প্রাণ হারায়।
এ দুর্ভোগ লাগবের জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন পানগুছি নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য সংসদে প্রস্তাব আনেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নিয়ে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাঁচাইয়ের কাজ শুরু করে পরীক্ষানিরীক্ষার দুই মাস পর তারা প্রতিবেদন দাখিল করে। তখন এ অঞ্চলের মানুষের মনে আশার প্রতিফলন ঘটলেও কালক্ষেপণে কাজটি ঝিমিয়ে যায়।
পরে সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন পানগুছি নদীর পশ্চিম তীরে ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সেতু বাস্তবায়নে কাজ শুরুর জন্য সংসদে পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করলে ২০২১ সালের ৪ মে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানগুছি নদীতে ১.৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.৩ মিটার প্রস্থ সেতুর জন্য ৯৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করেন। একই সঙ্গে পানগুছি নদীর পশ্চিম তীরে ১০ কিলোমিটার নদী প্রোটেকশন ওয়ালের জন্য আরও ৬৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
ইতোমধ্যে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক সেতুটির কনসালটেন্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিন আগে পানগুছি নদীর দুই ধারে ফেরিঘাট এলাকায় সেতু প্রকল্পের সাইনবোর্ড সাটানো হয়েছে।
সেতু প্রকল্পের কাজটি ধীরগতিতে চলমান থাকায় বাগেরহাট-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ৮ মে থেকে সেতুর জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে নদীর দুই পাড়ে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। কাজটি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এর পরেই শুরু হবে সেতুর নকশার কাজ। সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি বছরের শেষের দিকে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে বলে আশা করেন তিনি।