রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ১৫:৩৯ পিএম
রাজশাহীর তানোর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বিলকুমারী বিলের বাঁধের কয়েক কিলোমিটারে কয়েক হাজার গাছ। সেগুলো কেটে সাবার করেছে বন বিভাগ। সম্প্রতি থোলা। প্রবা ফটো
খরাপ্রবণ এলাকা রাজশাহীর তানোর উপজেলা। এই উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বিলকুমারী বিলের বাঁধের কয়েক কিলোমিটারে কয়েক হাজার গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। এত গাছ একসঙ্গে কেটে ফেলায় বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা। তবে বন বিভাগের দাবি, এসব গাছ নিয়ম অনুসারে কাটা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর পৌর এলাকার বিলকুমারী বিলের বাঁধটি মোহনপুর উপজেলা সীমানার মধ্যে পড়ে। পৌর এলাকার বুরুজ ব্রিজ ঘাটের উত্তরে বাঁধের প্রায় দেড় কিলোমিটার এবং ব্রিজ ঘাট থেকে কালিগঞ্জ যাওয়ার প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাঁধে রোপণ করা হয় কয়েক হাজার গাছ। তবে হঠাৎই সেই গাছগুলো কেটে সাবাড় করেছে বন বিভাগ। এসব এলাকা প্রচণ্ড খরাপ্রবণ হওয়ার কারণে পরিবেশবিদরা বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে বলছেন। কিন্তু বন বিভাগ সেই নির্দেশনা অমান্য করে ছোট-বড় কয়েক হাজার গাছ কেটে মরুপ্রান্তরে পরিণত করে ফেলেছে এলাকাটি।
গত মাসে ৪০ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে। তীব্র দাবদাহের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সরকার। আর সেই দাবদাহের মধ্যেই বাঁধের গাছ কেটেছে বন বিভাগ।
বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেন, মাসুদ সৈকত, সোহেলসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষিশ্রমিকরা কাজ করে বাঁধের গাছের ছায়াতলে বসে আরাম করত। ছোট, বড় ও মাঝারি কয়েক হাজার গাছ কাটা হয়েছে। এখন এই এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। গাছ কাটার পর বাঁধের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। অযথা গাছগুলো কেটে পরিবেশের ক্ষতি করা হয়েছে। তাপমাত্রা থেকে বাঁচতে এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য সরকার ও পরিবেশ সংগঠনগুলো বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে বলছে। কিন্তু বন বিভাগ তার উল্টো পথে চলছে।
মোহনপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, ‘বন বিভাগের সামাজিক কর্মসূচির আওতায় গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। রোপণের পর দশ বছর হলে গাছ কাটার নিয়ম। টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ কাটা হয়েছে।’ কত কিলোমিটার বাঁধের কত হাজার গাছ কাটা হয়েছে এবং টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা কে ছিল, জানতে চাইলে তিনি জানান, এসব বিভাগীয় অফিসে গিয়ে তথ্য নিতে হবে।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকা বলেন, ‘বন বিভাগের সামাজিক কর্মসূচি থেকে গাছ রোপণ করা হয় এবং ওই গাছের দশ বছর বয়স হলে কাটার নিয়ম আছে বলে আমাকে অবহিত করেছে।’ আরও কিছু তথ্য নিতে হলে বিভাগীয় বন অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ইউএনও। বিভাগীয় অফিসের বন সংরক্ষক মেহেদীজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে এসে কথা বলতে বলেন।