× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুই নৌকায় পা দিয়ে ধরাশায়ী বাচ্চু

রাজু আহমেদ, রাজশাহী

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ১৫:২৮ পিএম

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪ ১৬:১৪ পিএম

বাঁ থেকে আহসানুল হক মাসুদ, জিএম হিরা বাচ্চু ও আব্দুস সামাদ। ছবি কোলাজ : প্রবা

বাঁ থেকে আহসানুল হক মাসুদ, জিএম হিরা বাচ্চু ও আব্দুস সামাদ। ছবি কোলাজ : প্রবা

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া- এই তিনটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে আগামী ২১ মে। তিনটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক নানা সমীকরণে আলোচনায় তুঙ্গে রয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থী। ভোটারদের সমর্থনের চেয়ে তারা কে কোন প্রভাবশালী নেতার সমর্থন পাচ্ছেন- এ নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে।

পুঠিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। এরা হলেন- ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আহসানুল হক মাসুদ, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। আনারস প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সামাদ রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী জিএম হিরা বাচ্চু উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনজনই ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা।

তবে এই তিন প্রার্থী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুইটি বিপরীত বলয়ের হয়ে কাজ করেছেন। ফলে ওই দুই বলয় এবার উপজেলা নির্বাচনে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে রেখেছেন। আর সেই বলয়ের অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও তাদের নির্দেশনা মোতাবেকই কাজ করছেন।

প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ৮ মে। এর আগ পর্যন্ত পুঠিয়ার বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চুর প্রচারশিবির রাজশাহী-৫ আসনের এমপি ও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারার সমর্থনের কথা জানিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করে। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের পুরোটা ঘিরে দারার সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে ছিলেন অপর প্রার্থী আব্দুস সামাদ। এমন অবস্থায় প্রচারণার মাঠে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েন আব্দুস সামাদ। তবে ৮ মের পর হঠাৎ করেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ১১ মে পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম একটি সভা ডেকে আব্দুস সামাদকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন। প্রচার রয়েছে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারার নির্দেশেই ওই দিন সামাদকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

এদিকে জিএম হিরা বাচ্চু ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে হাত মেলান। মেয়র লিটনের সঙ্গে এমপি দারার প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাচ্চু দারার হয়ে মাঠে কাজ করেন। এভাবে কৌশলী বাচ্চু দুই পক্ষকে রাজি-খুশি করে উভয় পক্ষের সমর্থন বাগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তবে দুই নৌকায় পা রাখতে গিয়ে ছিটকে পড়েছেন বাচ্চু। পরিস্থিতি এমন যে আওয়ামী লীগের কোনো পক্ষই এখন তার পাশে নেই।

রাজনৈতিক এই সমীকরণে অপর প্রার্থীর নাম আহসানুল হক মাসুদ। রাজশাহী-৫ আসনের গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান সামান্য ভোটে আব্দুল ওয়াদুদ দারার কাছে পরাজিত হন। ওবায়দুর ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃগণনার দাবি করেন। এ সময় ওবায়দুরের হয়ে নির্বাচনের মাঠে কাজ করেন আহসানুল হক মাসুদ। আবার আহসানুল হক মাসুদের সঙ্গে রাসিক মেয়র লিটনের সম্পর্কটাও গুরু-শিষ্যের। এমন অবস্থায় মাসুদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী দারার সম্পর্কটা যেন সাপে-নেউলে।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিমন্ত্রী দ্বারা এসব নানা হিসাবনিকাশ করেই শেষ মুহূর্তে এসে বাচ্চুর ওপর থেকে তার সমর্থন তুলে নেন এবং পরীক্ষিত মিত্র সামাদের ওপর আস্থা রাখেন। এতে করে সব কুল হারিয়ে ধরাশায়ী এখন বাচ্চু। আর ফুরফুরে মেজাজে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আব্দুস সামাদ। তার পাশে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ।

এদিকে মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুরের হয়ে কাজ করলেও ওবায়দুরের অভিযোগ মাসুদের এলকায় তিনি ফেল করেছেন। এমন অভিযোগ তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনের নানাজনের কাছেই করেছেন। ফলে মাসুদ ওবায়দুরের সম্পর্কটাও এখন অনেটা ফিকে হয়ে পড়েছে। তবে মাসুদের পক্ষেও রয়েছে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ।

ভোটারদের সমর্থনের চেয়ে রাজনৈতিক এই বলয়ের সমর্থন এবং এমন নানা সমীকরণ প্রার্থীদের ভাবিয়ে তুলেছে। প্রতিপক্ষকে মানসিক চাপে রাখতে নানা পথ খুঁজছেন প্রার্থীরা। এরই মধ্যে জিএম হিরা বাচ্চু নির্বাচনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে প্রতিমন্ত্রী দারার বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, বাচ্চু দুই নৌকায় এখনও পা দিয়ে রেখেছেন। সুবিধা করতে না পেরে এখন তিনি প্রলাপ বকছেন। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া নিয়ে আমার কোনো মানা নেই বলেই জানি। তা ছাড়া বিএনপি ভোটারদের ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছে। এর বিপরীতে ভোটারদের কেন্দ্রে টানতে আমি দলীয় লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছি। যা জাতীয় নির্বাচনেও করে এসেছি। এখানে বাচ্চু বা সামাদ আমার কাছে মূল বিষয় নয়।

পুঠিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা একেএম নূর হোসেন নির্ঝর বলেন, প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে সরকারি সফরে অবস্থান করছেন। তার নিজ এলাকাতেই অনুষ্ঠান রয়েছে। তা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেও এমপি বা মন্ত্রী তার নিজ বাড়িতে থাকতে পারবেন। তবে অবশ্যই তিনি কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। প্রার্থীর অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা