কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ১৪:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৪ ১৬:৩৮ পিএম
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে বিচারপ্রার্থীদের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। প্রবা ফটো
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে বিচারপ্রার্থীদের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। শনিবার (১৮ মে) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন তিনি। এসময় তিনি বলেন, ‘বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সব ধরনের সেবা ও সুবিচার নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে (টেকনাফে) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট করা হচ্ছে। এ ইনস্টিটিউটকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে সারা দেশের নাগরিকেরা সহজে এর সুফল ভোগ করতে পারে।’
দেশের সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এটা সংবিধান গ্যারান্টি করেছে। প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার রয়েছে ন্যায়বিচার পাওয়ার। আদালতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্যই আসেন। আদালতের কর্তব্য হচ্ছে- বিচারপ্রার্থী সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’
এসময় কক্সবাজারে মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এসময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম, বিভাগের সদ্য সাবেক বিচারপতি বোরহানউদ্দিন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলামসহ হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতিবৃন্দ ও সুপ্রিম কোর্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
যা থাকছে ন্যায়কুঞ্জে
কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে নির্মিত হচ্ছে বিশ্রামাগারটি।
কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক জানান, প্রায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ন্যায়কুঞ্জের কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে অর্থাৎ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, ‘ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের জন্য কক্সবাজার আদালত ভবন সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত জমির অবস্থান অনুযায়ী কমন নকশাটি সংশোধন করে নতুন একটি ‘সি’ টাইপ প্ল্যান নকশা তৈরি করা হয়েছে। সংশোধিত নকশাটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কর্তৃক অনুমোদন দেওয়ার পর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএম কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে গণপূর্ত বিভাগ থেকে লেআউট দেওয়ার পর প্রাথমিকভাবে সংশোধিত নতুন ডিজাইন প্ল্যান অনুযায়ী ন্যায়কুঞ্জ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্মাণাধীন ন্যায়কুঞ্জের আয়তন এক হাজার বর্গফুট। অত্যাধুনিক নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীতে ডিজাইন করা সুপরিসর আধুনিক বিশ্রামাগার ন্যায়কুঞ্জে একত্রে ৬০/৭০ জন বিচারপ্রার্থীর বসার জায়গা থাকবে। এছাড়া ওয়াশরুম, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, ফাস্টফুডের দোকান, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থাসহ বহুমুখী সুবিধা থাকবে।’
বিশ্বমানের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট
এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছরা ইউনিয়নের শীলখালীতে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন প্রধান বিচারপতি।
শীলখালী সমুদ্র সৈকত ঘেঁষা মেরিন ড্রাইভের পাশেই ৩ একর ৩৪ শতক বরাদ্দ পাওয়া জমিতে নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীতে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। যেখানে থাকবে, গবেষণাধর্মী বিচারিক তথ্য-উপাত্ত, প্রাচীনকালের বিচার ব্যবস্থার নিদর্শন ও ইতিহাস সমৃদ্ধ মিউজিয়াম, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের গবেষণায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা। গবেষণায় নিয়োজিতদের জন্য থাকবে আবাসন ব্যবস্থা, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউস।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বমানের একটি ইনস্টিটিউট হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অত্যাধুনিক বিচারিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তাদের কার্যক্রমের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি হবে দেশের প্রথম এবং একমাত্র আইন, আদালত ও বিচারবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রাজধানীর বাইরে এটি হবে প্রথম একটি আধুনিক স্থাপনা।