× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছাই থেকে সোনা আনেন তারা

মো. আতিকুল ইসলাম, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ)

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ১৪:৪৫ পিএম

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নে ছাই থেকে সোনা উৎপাদনে কাজ করছেন দুই ব্যক্তি। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নে ছাই থেকে সোনা উৎপাদনে কাজ করছেন দুই ব্যক্তি। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

কবি গগন চন্দ্র দাসের ভাষায়, যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন’- ঠিক সেই মানিক-রতনের খোঁজ মিলেছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রাম ও গোবিন্দল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায়। দুই ইউনিয়নে প্রায় ৭-৮ হাজার পরিবার সেখানে ছাই থেকে সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জ, তামা ও সিসাজাতীয় মূল্যবান ধাতব পদার্থ বের করে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে। তারা তাদের জীবন-জীবিকার সন্ধানও খুঁজে পেয়েছে ‘ছাই’য়ের মধ্যেই! এরা দেশের অর্থনীতিতেও রেখে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ এলাকার অধিকাংশ লোক স্বর্ণ তৈরি, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনে জড়িত থাকায় ইতোমধ্যে এলাকাটি ‘স্বর্ণগ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাও আবার যেনতেন সোনা নয়, একদম খাঁটি সোনা।

ঢাকার অদূরে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের সিঙ্গাইর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন চারিগ্রাম ও গোবিন্দল। যেখানে এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের প্রধান পেশাই হচ্ছে ছাই থেকে সোনা উৎপাদন। পুরুষদের পাশাপাশি গ্রামের নারীরাও নিখুঁত হাতে ছাই থেকে সোনা উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত। তাদের উৎপাদিত সোনার কদর দীর্ঘদিন ধরেই জেলা ও জেলার বাইরে বিদ্যমান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় জুয়েলারি মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও সেখান থেকে পাইকারি দরে ওই সোনা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, সিলেট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান থেকে ওয়েস্টেজ ছাই কিনে আনেন ছাই ব্যবসায়ীরা।

তারপর শুরু হয় ছাই থেকে সোনা, রুপা, ব্রোঞ্চ, তামাজাতীয় মূল্যবান ধাতব পদার্থ সংগ্রহের কাজ। যদিও কাজটি মোটেও সহজ নয় ও পরিশ্রমসাধ্য। তারপরও সেই ব্রিটিশ আমল থেকে দেড়শ বছর ধরে এ কাজটি করে যাচ্ছেন চারিগ্রামের দাশেরহাটি ও গোবিন্দল গ্রামের ব্যবসায়ীরা।

ছাই থেকে কীভাবে স্বর্ণ তৈরি হয় জানতে চাইলে তারা বলেন, যেসব ছাই তারা কিনে আনেন, তার মধ্যে তামা, দস্তা, সোনাসহ আরও কয়েকটি ধাতব পদার্থ পাওয়া যায়। প্রথমে ছাঁকন পদ্ধতিতে ছাইকে সূক্ষ্ম একটি চালুনিতে চালতে হয়। তারপর ঢেঁকিতে ভালোভাবে গুঁড়ো করে স্বচ্ছ পানিতে মিশিয়ে পিণ্ড তৈরি করা হয়। ওই পিণ্ডকে ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। শুকনো পিণ্ডকে কঠিন আগুনে তাপ দিলে তা থেকে ময়লা বের হয়ে আসে এবং বাকি অংশ সোনা, রুপা, তামা, সিসা, ব্রোঞ্চ, অ্যালুমিনিয়াম ও লোহামিশ্রিত তরল পদার্থে রুপ নিয়ে বের হয়ে আসে। তরল পদার্থকে মাটিতে গর্ত করে চুন ও ধানের তুষ দিয়ে পুড়িয়ে সিসা বের করা হয়। তারপর ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে পানিতে ধুয়ে সিসা আলাদা করা হয়। পিণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাতব পদার্থ বের করে আলাদা করা হয় সোনা, রুপামিশ্রিত পদার্থ। সেই তরল পদার্থ একটি আলাদা পাত্রে নাইট্রিক এসিড ও কিছু কেমিক্যাল মিশিয়ে সোনা ও রুপা আলাদা করা হয়। এভাবেই ছাই থেকে সংগ্রহ করা হয় সোনা।

ব্যবসায়ী মো. বাবুল মিয়া, মো. আরসেদ আলী, মো. শাজাহান মিয়া, মো. সুরুজ মিয়া ও মো. আজিজুল হক জানান, একেকজন ৩০, ২৫, ২০, ১৫ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত। কিন্তু পেশাটিকে টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাই কিনে আনার সময় পথেঘাটে পুলিশ খুব ঝামেলা করে। টাকা না দিলে মাল আটকে দেয়। সবখানেই টাকা দিতে হয়। এছাড়া ছাই থেকে স্বর্ণ বের করার মূল উপকরণ নাইট্রিক এসিড ব্যবহার ও ক্রয় করার ক্ষেত্রেও তাদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।  

গোবিন্দল জুয়েলারি মালিক সমিতির সেক্রেটারি খলিলুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাই সংগ্রহ করে নিয়ে আসার সময় চাঁদাবাজদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আশা করছি, সরকার এই ব্যবসায় সুদৃষ্টি রাখবে।

সিঙ্গাইর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহিনুর রহমান সৌরভ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গোবিন্দল গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষ রয়েছে। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ লোক ছাইমাটি থেকে স্বর্ণ বের করার কাজ করে। ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জুয়েলারি দোকানের ছাইমাটি কিনে এনে নানা প্রক্রিয়ায় স্বর্ণ, রুপা বের করে। আমি মনে করি, তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। সরকার এই ব্যবসায় সুদৃষ্টি রাখবে। যাতে তারা অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা