× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পোড়ামাটির কারিগর

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৪ ১৫:৩৫ পিএম

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪ ১৫:৪৮ পিএম

দক্ষ হাতে সুনিপুণ কাজ করছেন এক নারী মৃৎশিল্পী। বুধবার তোলা। প্রবা ফটো

দক্ষ হাতে সুনিপুণ কাজ করছেন এক নারী মৃৎশিল্পী। বুধবার তোলা। প্রবা ফটো

এখনও মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন পিরোজপুর সদর উপজেলার অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর পাশে অবস্থিত পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। তাদের ঘরে ঘরে ঘুরছে চাকা। আওয়াজ উঠছে ঘড়র ঘড়র। পালপাড়ায় পাল সম্প্রদায়ের প্রায় ১৫০ পরিবার বসবাস করছে। এই চাকা ঘুরিয়ে তৈরি করে চলেছে মাটির নানা জিনিস।

পিরোজপুরের মৃৎশিল্পের ইতিহাস বহু পুরোনো। এখানকার পালদের হাতের আলতো চাপে মাটির তাল হয়ে যায় থালাবাসন, ফুলের টব, কাপ-পিরিচ, বাহারি আরও কত কী! যদিও এখন শহরের চাহিদার কারণে পোড়ামাটির ওপর নানা রঙের প্রলেপ লাগতে শুরু করেছে। এই পাল সম্প্রদায়ের প্রধান জীবিকা মৃৎশিল্প। কুমার পল্লীর নারী-পুরুষ সবাই এ কাজ করেন। বছরের পর বছর তাদের নিপুণ হাতে তৈরি হয় মাটির হাঁড়ি, সানকি, থালা, কলসসহ নানান সামগ্রী। এক যুগ আগেও এসব জিনিস ছিল মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয়। তবে এখন মেলামাইন, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এদের জায়গা দখল করে নিয়েছে।

তবু ঐতিহ্য নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন সেতুর পাশের পাল পরিবারগুলো। যদিও কাঁচামালের মূল্য, পণ্য শহরে আনার খরচ ইত্যাদি নানা কারণে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা। বছরের অন্যান্য সময় পালরা বেশ দুরবস্থায় থাকলেও গ্রামগঞ্জের মেলা ও পূজা অর্চনা এলে কিছুদিনের জন্য হলেও তারা কর্মমুখর হয়ে ওঠেন। কর্মমুখর হয়ে উঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃৎশিল্প পল্লী।

সরেজমিন মৃৎশিল্প পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে, জয়দেব চন্দ্র পাল আর স্বপন চন্দ্র পাল, সঞ্চয় পাল, সন্তোষ পাল সবাই কাজে মহাব্যস্ত। দেখা গেল, একটি কাঠের তক্তার ওপর তৈরি খেলনা রেখে শুকানো হচ্ছে। রোদে শুকিয়ে উঠলে এসব মাটির পণ্য পোড়ানোর জন্য গাদা করে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি তৈজসপত্র শুকানোর পর অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চুলায় পোড়ানো হয়। এরপর সেগুলো উঠিয়ে বিক্রির জন্য জড়ো করে রাখা হয়।

জয়দেব চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমরা এ কাজ করি পূর্বপুরুষ ধরে। কিন্তু বাজারের যে অবস্থা তাতে কাঠ ও মাটির দাম প্রচুর। মাটি পোড়ানোর একটি মেশিনের দাম ২৫ হাজার টাকা। কিস্তিতে টাকা এনে কাজ করতে হয়। দেখা যায় আয় করি ৫০ টাকা কিন্তু খরচ হয় ১০০ টাকা। মাটির এ কাজে এখন এর জীবন নাই। এসবের কদরও নাই। কেবল বৈশাখের মেলায় কিছু জিনিসপত্র বিক্রি হয়। আমাদের দুরবস্থা দিন দিন বাড়ছে। সরকার যদি আমাদের ক্ষুদ্রঋণ দিত, তাহলে হয়তো আমরা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারতাম।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা