গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ১৮:১৮ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৪ ২০:১২ পিএম
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের থানসিংহপুর কাচারি সড়কে আলাই নদীর ওপর দেড় যুগ আগে নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে। প্রবা ফটো
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের থানসিংহপুর কাচারি সড়কে আলাই নদীর ওপর দেড় যুগ আগে নির্মাণ করা হয় একটি ফুট ব্রিজ। যে ব্রিজ দিয়ে লোকজন শুধু পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারত। উন্নত যোগাযোগের স্বার্থে সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রয়োজন দেখা দেয় পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে ফেলার। পুরোনো মালামাল বিক্রি করতে নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ব্রিজের দুই পাশের ইট-রডসহ অন্যান্য মালামাল খুলে নিয়ে বিক্রি করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভেঙে ফেলা পুরোনো ব্রিজটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নিয়ন্ত্রণাধীন।
স্থানীয় ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দেড় যুগ আগে নির্মিত ব্রিজটি দিয়ে রিকশা-ভ্যান থেকে শুরু করে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারত না। উন্নত যোগাযোগের স্বার্থে ৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৪ মিটার আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি। সেটার টেন্ডার পেয়ে ব্রিজটির কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জাকাউল্লা অ্যান্ড ব্রাদার্স’। কিন্তু এলজিইডি কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে দরপত্র আহ্বান ছাড়াই পুরোনো ব্রিজটির দুই পাশের ইট-রডসহ সকল মালামাল খুলে নিয়ে বিক্রি করে দেয় জাকাউল্লা অ্যান্ড ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ।
পরে গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিউল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় এবং একই সঙ্গে মালামাল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বোয়ালি ইউনিয়নের থানসিংহপুর এলাকার বাবু মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসী অত নিয়ম-কানুন বুঝি না। তবে আমরা দেখেছি ঠিকাদারের লোকজন ট্রাক্টরে করে ইট-রডসহ অনেক মালামাল নিয়ে গেছে। কয়েক দিন থেকে শুনতেছি তারা নাকি সেগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে।’
একই এলাকার মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘এই মালামালগুলো যখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিয়ে যায়, এলাকাবাসী বাধা দিয়েছিল। কিন্তু তাদের গুণ্ডা বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী অসহায়। যেহেতু মালামালগুলো সরকারি, এগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লা অ্যান্ড ব্রাদার্সের চেয়ারমান মো. জাকাউল্লাহ মুঠোফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার সারা দেশে অনেকগুলো সাইট চলে। গাইবান্ধায় ব্রিজের মালামাল বিক্রির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। গাইবান্ধায় আমার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো কারণ দর্শানোর চিঠি পাইনি। তবে মেইলে দিয়ে থাকলে তা চেক করা হয়নি।’
জানতে চাইলে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিউল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে কারণ দর্শানোর জন্য একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি মালামাল ফেরত দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’