সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ১৭:২৮ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৪ ১৯:৩৭ পিএম
সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র হিসাব কর্মকর্তা রাজীব মুন্সীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
ভুয়া পরিপত্র দেখিয়ে সোয়া কোটি টাকার পাঁচ হাজার গাছ বিক্রির অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র হিসাব কর্মকর্তাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ। গাছ চুরির বিষয়ে স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী।
বুধবার (১৫ মে) দুপুরে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক হাসিব হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকা থেকে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র হিসাব কর্মকর্তা রাজীব মুন্সীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর আসামি নিরাপত্তারক্ষীকে গত মাসের ২৬ এপ্রিল নালিতাবাড়ী গণস্বাস্থ্যের উপকেন্দ্র থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নিরাপত্তারক্ষী লাল মিয়া শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার বাতকুচি এলাকার বাসিন্দা। হিসাবরক্ষক রাজীব মুন্সী পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া থানার লক্ষীপুরা গ্রামের। সে ২০১১ সালে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সিনিয়র হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পায়।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ১০ জানুয়ারিতে গাছ বিক্রির জন্য সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র হিসাব কর্মকর্তা রাজীব মুন্সী নালিতাবাড়ী থানার বাতকুচি গণস্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে যান। সেখানে নিরাপত্তারক্ষী লাল মিয়াকে নিজেকে সিনিয়র হিসাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে পরিপত্র দেখান। সেখানে ১২ একর পাহাড়ি জমিতে ১৮ বছর আগে রোপণ করা পাঁচ হাজার একাশি জাতের গাছ বিক্রির জন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীকে নিয়ে বাগান পরিদর্শন করেন রাজীব। পরে নিরাপত্তারক্ষী লাল মিয়াকে এ বিষয়ে চুপ থাকতে বলা হয়। পরে দীর্ঘ তিন মাস পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপকেন্দ্র পরিদর্শন করে জানতে পারেন ভুয়া পরিপত্র দেখিয়ে সোয়া কোটি টাকার পাঁচ হাজার গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। কে বা কারা গাছ বিক্রি করেছে সঠিক তথ্য না পেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়।
নিরাপত্তারক্ষী লাল মিয়া জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমি উপকেন্দ্রের ১২ একর জমির ৫ হাজার গাছ পাহারার দায়িত্বে ছিলাম। তিন মাস আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে শাকিল নামের এক লোককে বাগানে নিয়ে আসে। পরে গাছগুলো বিক্রির একটি কাগজ দেখায়। কিছু দিন পর রাজীব ও শাকিল বাগানে এসে গাছ কাটা শুরু করেন। আমি বিষয়টি ম্যানেজারকে জানাতে চাইলে রাজীব নিজেকে বড় স্যার হিসেবে পরিচয় দেন। পরে ২৩ লাখ টাকায় গাছগুলো বিক্রি হয়। এ ছাড়া সহযোগিতা করার জন্য আমাকে এক লাখ টাকা দেয়।’
গাছ চুরির বিষয়ে শেরপুর জেলার ভাতশালা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক রেহেনা পারভীন মোবাইল ফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় উপকেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়নি। তবে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ ছিল। তার কাছ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হতো। তবে গাছ কাটার বিষয়টি সে কখনও জানায়নি। ঈদের ছুটি শেষে বাতকুচি উপকেন্দ্রে গেলে ১২ একরের ওপর রোপণ করা ৫ হাজার গাছ দেখতে না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। পরে সে জানায়, গত জানুয়ারিতে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা তাকে পরিপত্র দেখিয়ে গাছ কেটেছে। বিষয়টি নিয়ে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগযোগ করলে এ ব্যাপারে কোনো পরিপত্র করা হয়নি বলে জানায়। পরে থানায় অভিযোগ করা হয়।’
এ ব্যাপারে তার গাফিলতি আছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই রয়েছে। তার প্রতি ভরসা করা ঠিক হয়নি। আমার আরও খোঁজখবর নেওয়া উচিত ছিল। এখন যে কী করব বুঝতে পারছি না।’
কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক হাসীব হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পর নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে রাজীব মুন্সী নামের একজনের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সাভারের নিরিবিলি এলাকায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য আরও অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া বিক্রি করা গাছ ও টাকা উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য মঞ্জুর কাদির আহম্মেদের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি নিজেই পরিদর্শন করেছেন। আইনগতভাবে চক্রটি ধরতে থানায় কথা বলা হয়েছে।
মঞ্জুর কাদির আহম্মেদের স্বাক্ষরিত পরিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে পরিপত্র দেওয়া হয়েছে সেখানে পদ ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা ভুয়া। স্বাক্ষর জাল করে এই পরিপত্র বানানো হয়েছে।’