× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিলেট সিটি

হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ভাড়াটিয়ারা

কাওছার আহমদ, সিলেট

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ১৬:২২ পিএম

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪ ১৬:২৪ পিএম

সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। ফাইল ফটো

সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। ফাইল ফটো

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃক ধার্যকৃত নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন মালিকদের পাশাপাশি নগরীর ভাড়াটিয়ারাও। তারা আশঙ্কা করছেন হোল্ডিং ট্যাক্স অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি হলে বাসার মালিকরা বাসা ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারেন। এমনিতেই নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে নগরবাসীর নাভিশ্বাস। এ অবস্থায় যদি বাসা ভাড়া বৃদ্ধি হয় তবে সেটা তাদের জন্য হবে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়নের পর গত ৩০ এপ্রিল হোল্ডিং ট্যাক্সের নতুন তালিকা প্রকাশ করে সিসিক কর্তৃপক্ষ। নতুন তালিকায় হোল্ডিং ট্যাক্স আবাসিক ভবনের প্রতি বর্গফুট ৫ টাকা ও বাণিজ্যিক ভবনের প্রতি বর্গফুটের জন্য ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে আবাসিক ভবনের প্রতি বর্গফুট তিন টাকা ও বাণিজ্যিক ভবনের প্রতি বর্গফুটের জন্য পাঁচ টাকা নির্ধারিত ছিল; যদিও মেয়রের কাছে আবেদন করে অনেকে এর চেয়ে অনেক কম ট্যাক্স দিতেন।

নতুন হোল্ডিং ট্যাক্সকে অস্বাভাবিক আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদে নেমেছেন নগরবাসী। যদিও সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি নগরবাসীকে। এতে অসন্তোষ বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে।

অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এ হোল্ডিং ট্যাক্স (বার্ষিক গৃহকর) বাতিলের দাবিতে দল-মত নির্বিশেষে একাট্টা হয়েছেন নগরবাসী। প্রতিদিন নগরীতে প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ ও স্মারকলিপি প্রদান করছে বিভিন্ন সংগঠন। এ হোল্ডিং ট্যাক্স অযৌক্তিক দাবি করে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছে সাধারণ মানুষও।

নগরীর বাগবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন রফিক মিয়া। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সিসিকের এ হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।

সিসিকের রাজস্ব শাখা সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শেষে হোল্ডিং সংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হয়। এতে নগরীর পুরোনো ২৭টি ওয়ার্ডে হোল্ডিং নির্ধারিত হয় ৭৫ হাজার ৪৩০টি। এসবের ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১১৩ কোটি ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা।

নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্যের সময় ধরা হয় ২০২১-২২ সাল। সেই করারোপের তালিকাই ৩০ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডের হোল্ডিং ওই তালিকায় আসেনি।

মেয়রের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

নগরবাসীর ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে গত রবিবার দুপুর আড়াইটায় নগর ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা সভা করে ট্যাক্স নির্ধারণ নিয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে সিসিকের পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডে রিভিউ বোর্ড গঠন করা হবে। পূর্বনির্ধারিত সময় বর্ধিত করে ২৮ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়াও নতুন ১৫টি ওয়ার্ডের অ্যাসেসমেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। 

মেয়র বলেন, চলমান অ্যাসেসমেন্ট/রি-অ্যাসেসমেন্ট নিয়ে কোনো প্রকার উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। সিলেটের সচেতন নাগরিক ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। 

সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর আগে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আলাপ করা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে গণশুনানি করে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথার্থ হতো। তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় স্থগিত করা উচিত।

মেয়রকে স্মারকলিপি

অতি উচ্চহারে আরোপিত এ হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিলের দাবিতে সোমবার (১৩ মে) দুপুর ২টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিশাল সমাবেশ করে সিলেটের নাগরিকবৃন্দ। সমাবেশ শেষে সিলেটের নাগরিকবৃন্দের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম ও জাসদ সিলেট জেলার সভাপতি লোকমান আহমদের নেতৃত্বে মিছিলসহকারে নগর ভবনে মেয়র বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মেয়র অনুপস্থিত থাকায় স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ-এর মোতাওয়াল্লি সরেকওম ফতেউল্লাহ আল আমান, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি মো. আরিফ মিয়া, সিপিবি জেলা সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, সাম্যবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ব্রজপোপাল, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি মো. আরিফ মিয়া, বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি সিকান্দর আলী, সিলেট আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি সিলেট বিভাগের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার, বাপা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিমসহ সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও ২৭টি ওয়ার্ড-এর ভুক্তভোগী নাগরিকবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা