এস এম রানা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৪ ১৪:২৪ পিএম
এমভি আব্দুল্লাহর চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান জাহাজ থেকে নেমে দুই মেয়ে ইয়াসরা ফাতেমা ও উনাইজা মাহবিনকে জড়িয়ে ধরেন। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-১ থেকে তোলা। ছবি : নিপুল কুমার দে
সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মিদশার দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে অবশেষে স্বজনদের কাছে ফিরেছেন এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিক। তাদের একজন এমভি আব্দুল্লাহর চিফ অফিসার আতিক উল্লাহ খান। তাকে বরণ করতে দুই মেয়ে ফুল হাতে চাচার সঙ্গে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিঘাটে। সেখানে বড় মেয়ে ইয়াসরা ফাতেমা এবং মেজমেয়ে উনাইজা মাহাবিন অপেক্ষায় ছিল বাবার জন্য। বাবাকে জাহাজে দেখা যাচ্ছে, বাবা হাত নাড়ছে। কিন্তু বাবাকে কাছে পাওয়ার মুহূর্তটি শেষই হচ্ছিল না। কিছুটা অস্থির হয়ে উঠছিল ইয়াসরা ও উনাইজা।
বিকার সোয়া ৪টার সময় বাবাকে কাছে পেয়ে যায় তারা। মেয়েদের দেখেই যেন কয়েক ফুট দূর থেকে মেয়ের দিকে ঝাঁপ দেন আতিক উল্লাহ খান। দুই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে ভেঙে পড়েন কান্নায়। অশ্রুসিক্ত হয় বাবা-কন্যার চোখ। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীরাও হুমড়ি খেয়ে পড়েন বাবা-মেয়ের আনন্দঘন মুহূর্তের দৃশ্য দেখতে। বাবাকে কাছে পেয়ে দুই মেয়ে বাবার গালে চুমু একে দেন। বাবাও আদর করেন মেয়েদের। বাবা-মেয়ের এমন আনন্দঘন মুহূর্তের মতো আরও অনেকগুলো আনন্দঘন মুহূর্তের অবতারণা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে।
গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে জিম্মি হওয়া ২৩ নাবিকদের একজন আতিক উল্লাহ খান। তিনি ছিলেন এমভি আব্দুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা। জিম্মিদশার ৩৩ দিন কাটিয়ে গত ১৩ এপ্রিল যান দুবাই বন্দরে। সেখানে কয়লা খালাসের পর নতুন করে কার্গো লোড করেন জাহাজে। তারপর ফিরতি পথ ধরেন বাংলাদেশমুখী।
গত ১৩ মে এমভি আব্দুল্লাহ পৌঁছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে। এমভি আব্দুল্লাহ থেকে সাইন অফ করেন। পরে উঠেন লাইটার জাহাজ এমভি জাহান মণিতে। এ জাহাজে চড়ে মঙ্গলবার বিকাল চারটায় পৌঁছেন চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে। এরপরই দুই রাজকন্যার দেখা পান আতিক উল্লাহ। দুই মেয়েকে আদর করতে করতে আতিক উল্লাহ খান বলেন, ‘এ সময়টুকুর জন্যই অপেক্ষায় ছিলাম।’
আতিক উল্লাহ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি অতীতের কিছু বলতে চাই না। শুধু মেয়ের নিয়েই কিছুক্ষণ থাকতে চাই।’
চট্টগ্রাম মহানগরীর মেমন গ্রামারস স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বড় মেয়ে ইয়াসরা ফাতেমা প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে জানায়, ‘আমি আঙ্কেলের সঙ্গে বাবাকে নিতে এসেছি। ফুল নিয়ে এসেছি। কতোদিন বাবাকে দেখি না। আজ বাবাকে পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে।’ মেঝমেয়ে পড়ে প্রথম শ্রেণিতে। সে ছিল বাবার সঙ্গে কথার ফুলঝুড়ি ছড়াতে ব্যস্ত।
আতিক উল্লাহ বলেন, জিম্মি হওয়ার পর বাড়িতে ফিরব কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। জিম্মিকালে অস্ত্রের মুখে ছিলাম। জলদস্যুরা বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল রাখত। সময়ে সময়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ত। আতঙ্ক ছড়াত। তখনও মেয়েদের নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। পরিবার নিয়ে ভাবতাম। আর দেখা হবে কি না সেটা ভাবতাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা উদ্ধার হয়ে পুনরায় দেশে ফিরতে পেরেছি। এজন্য আমি সরকার ও কেএসআরএম কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।