এস এম রানা ও হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ০৮:৫২ এএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৪ ০৮:৫৬ এএম
সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া তানভির আহমেদ জাহাজ থেকে নেমেই জড়িয়ে ধরেন মা জ্যোৎসা বেগমকে। মা-ছেলের এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সবার মাঝে। মঙ্গরবার বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-১ থেকে তোলা। ছবি : নিপল কুমার দে
সেই ১২ মার্চ জিম্মি হওয়ার পর মৃত্যুর দুয়ারে বসে কাটাতে হয়েছে পরের ৩৩টি দিন। ১৩ এপ্রিল ভোরে মুক্তিপণের বিনিময়ে মেলে মুক্তি। সোমালিয়ার জলদস্যুরা জাহাজ ছেড়ে গেলে মৃত্যুর ভয় কাটলেও এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকদের তৎক্ষণাৎ মায়ের কোলে ফেরার কোনো উপায় ছিল না। তাই মুক্তির পর থেকে শুরু হয় মায়ের কোলে ফেরার অপেক্ষা। ৬২ দিনের সেই প্রতীক্ষার সমাপ্তি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার। বিভীষিকাময় এক সমুদ্রযাত্রার অবসান ঘটিয়ে আবার মা ও দেশমাতৃকার কোলে ফিরে আসেন এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকরা।
নাবিক ছেলে আইনুল হক দেশের মাটি স্পর্শ করেই ঝাঁপিয়ে পড়েন মা ইফতি আরা বেগমের বুকে। মা-ছেলের কান্না যেন ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে কর্ণফুলীর তীরে। মা তার সন্তানকে ফিরে পেয়ে দারুণ খুশি। বারবার কৃতজ্ঞতা জানান আল্লার দরবারে।
ছেলের হাত ধরে এগিয়ে যেতে যেতে তিনি বলেন, ‘ছেলে আমার হাতের বিরিয়ানি খেতে খুব পছন্দ করে। বাসায় রান্না করে রেখে এসেছি। এখন ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরব।’
জিম্মিকালে ছেলের চিন্তায় অস্থির সময় পার করেছেন জানিয়ে এই মা আরও বলেন, ‘সে যে কী দুর্বিষহ জীবন গেছে, বলে বোঝাতে পারব না।’ মায়ের পাশে দাঁড়ানো আইনুল হক বলেন, ‘জিম্মিকালে প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে মৃত্যুর আতঙ্কে। বন্দুক হাতে টহল দিত জলদস্যুরা।’
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-১-এ গতকাল লাইটার জাহাজ এমভি জাহান মনি-৩ থেকে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসেন এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিক। দেশের মাটি স্পর্শ করার সেই অসাধারণ মুহূর্তটিতে সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। যে বন্দর সব সময় মুখরিত থাকে নানান যান্ত্রিক শব্দে, সেখানে কিছু সময়ের জন্য অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা নেমে আসে। সব চোখ নিবদ্ধ হয় নাবিকদের নেমে আসার পথের দিকে। স্তব্ধতার ভেতরেই যেন সরব হয়ে ওঠে স্বাগত সম্ভাষণ জানানোর উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে নাবিকদের পুনর্মিলনের দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেরই চোখের কোণ ভিজে ওঠে।
‘আজ যেন ঈদের আনন্দ’
নাবিকদের বরণ করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিশেষ আয়োজন করা হয়। জেটিতে টাঙানো হয় সামিয়ানা। জাহাজ পর্যন্ত বিছিয়ে দেওয়া হয় গালিচা। নাবিকরা ফিরবেন জাহান মনি নামের একটি লাইটার জাহাজে চড়ে। এর আগে তারা কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করা এমভি আব্দুল্লাহ থেকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে উঠে পড়েন জাহান মনিতে। এমভি আব্দুল্লাহর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ২৩ জন নাবিকের আরেকটি দল। দায়িত্ব হস্তান্তরের পরই উদ্ধার হওয়া নাবিকরা চট্টগ্রাম বন্দরের পথে আসতে থাকেন। বিকাল পৌনে চারটার দিকে কর্ণফুলী নদীর মোহনার দিক থেকে জেটির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে জাহান মনি। এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি আকার-আয়তনে অনেক বড়। এটি চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছে না। এই কারণেই লাইটার জাহাজে করে নাবিকদের বন্দরে নিয়ে আসা হয়।
তিনটি টাগ বোটের সহযোগিতায় জাহান মনি ধীরে ধীরে বন্দরের দিকে এগিয়ে আসার সময় দূর থেকেই ডেকে থাকা ২৩ নাবিককে অধীর আগ্রহে স্বজনদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। বারবার হাত নাড়ছিলেন তারা। বন্দর জেটিতে জাহাজটি পৌঁছে ৪টা ১০ মিনিটে। জেটির সঙ্গে জাহাজের সংযোগ সিঁড়ি লাগানোর আগেই যেন সবাই একযোগে নেমে পড়তে চাইছিলেন। অপেক্ষা আর বাধ মানছিল না। এতদিনের বিচ্ছেদে বিদীর্ণ হৃদয় যেন সামান্য কিছু মুহূর্তও তখন ‘ধার’ দিতে অপারগ।
অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম জীবনজয়ী নাবিকদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। এর পরপরই নাবিকরা স্বজনদের মাঝে হারিয়ে যান।
ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদকে বুকে টেনে নেন জিম্মি হওয়া জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত। একই সময় প্রধান কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ খানের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার দুই মেয়ে ইয়াসরা ফাতেমা (১০) ও উনাইজা মাহবিন (৮)। দুই মেয়ে বাবার গাল চুমু এঁকে দেয়। দুই মেয়েকে কোলে তুলে নেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘এখন যে অনুভূতি, সেটা প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। এমন আনন্দ জীবনেও উপভোগ করিনি।’
জাহাজের চতুর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ মাথা গুঁজে দেন মায়ের কোলে। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে মা জোৎস্না বেগম বলেন, ‘জিম্মি দশায় যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপদ হতে পারত। এমন পরিস্থিতি থেকে আল্লাহ ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই আনন্দের কথা বলে বোঝাতে পারব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন প্রথম শুনেছিলাম জাহাজ জিম্মি করা হয়েছে, তখন অনেক আতঙ্কে ছিলাম। কখন কী খবর আসেÑ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতাম। কারণ তারা সব সময় বন্দুকের মুখে ছিল। তখন অনেক কষ্টে ছিলাম। কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারিনি। শুধু বসে বসে আল্লাহকে ডেকেছি। সেই কষ্টের আজ অবসান হলো। আজ আমাদের জন্য যেন ঈদের আনন্দ।’
ছেলের জন্য বিশেষ কিছু করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই করেছি। ছেলে যা যা পছন্দ, সেসব খাবার তৈরি করেছি। তাকে দেখতে বাসায় আত্মীয়স্বজন আসা শুরু করেছে।
ইঞ্জিন ফিডার সালেহ আহমেদের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, আপনজনকে কাছে পাওয়ার জন্য অপেক্ষার অবসান হলো। খুব ভালো লাগছে। মুক্ত হওয়ার পর কখন ফিরে আসবে সেই অপেক্ষায় ছিলাম। রহমতের মাস পুরো রমজানটাই আমরা কষ্টের মধ্যে কাটিয়েছি। তবে আশাবাদী ছিলাম, রমজানের পর একটা সুখবর পাব। বিশ্বাস ছিল, ওনারা মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন।
জাহাজের বয়লার আলী হোসেনের শাশুড়ি সালমা জাহান বলেন, ‘বিয়ের তিন মাসের মাথায় সে জাহাজে ওঠে। জিম্মি হওয়ার পর যখন জানলাম তখন খুব আতঙ্কে ছিলাম। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি মাত্র পাঁচ-ছয় মাস হলো। এর মধ্যেই এমন খবর, খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। তবে জাহাজ থেকে ফোন করে সে বলত, আম্মু চিন্তা করবেন না, আমরা ভালো আছি। কিন্তু তারা আসলে জাহাজে কেমন ছিল সেটা তো আমাদের বলেনি। তবে প্রথম দিকে আমাদের ধারণা খুব খারাপ ছিল, কি না কি হয়ে যায়। পরে যখন শুনেছি কোম্পানি জলদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য তখন আমাদের দুশ্চিন্তা কমতে থাকে।
নাবিক আসিফুর রহমানের বাবা আক্তার উদ্দিন বলেন, ছেলে নাবিক হিসেবে বৈদেশিক জাহাজে কাজ করছে পাঁচ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে জিম্মি হওয়ার মতো বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়নি। তাই যখন শুনেছিলাম, তারা সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়েছে, তখন আতঙ্কিত হয়েছিলাম। কিন্তু মনের মধ্যে একটা বিশ্বাস ছিল, তাদের কিছু হবে না। জিম্মি দশা থেকে এক দিন তারা মুক্তি পাবে।
জিম্মি দশা থেকে ফেরা
৫০ হাজার টন কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে এমভি আব্দুল্লাহ গত ৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা হয়। ১৯ মার্চ আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে জাহাজটির পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জলদস্যুরা মুক্তিপণ দাবি করে জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে। মুক্তিপণের বিনিময়ে জিম্মি হওয়ার দীর্ঘ ৩৩ দিন পর গত ১৩ এপ্রিল মধ্যরাতে জাহাজটি থেকে নেমে যায় সোমালিয়ান জলদস্যুরা। মুক্ত হয় ২৩ নাবিকসহ এমভি আব্দুল্লাহ। এর আট দিনের মাথায় গত ২১ এপ্রিল বিকালে নাবিকসহ এমভি আব্দুল্লাহ দুবাই পৌঁছে। ওই বন্দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা খালাসের পর নতুন ট্রিপের পণ্য চুনাপাথর লোড করতে ইউএইর মিনা সাকার বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় জাহাজটিকে। সেখান থেকে ৫৩ হাজার টন চুনাপাথর নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল দেশের পথে রওনা হয় এমভি আব্দুল্লাহ।
কেএসআরএম অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এমভি আব্দুল্লাহ ছিনতাই হওয়ার পর বন্ধুরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো অভিযান চালানোর জন্য অবস্থান নিয়েছিল জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় বল প্রয়োগের বিপক্ষে ছিলাম।’ কেএসআরএম কর্তৃপক্ষও বল প্রয়োগের বিপক্ষে ছিল। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে এই সমস্যার সমাধান করার জন্য। এটি করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেভাবে কাজ করেছে, একইভাবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সব সময় সচেষ্ট ছিল।’
বন্দরের এনসিটি-১ জেটিতে দেশে ফিরে আসা এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের ২৩ নাবিকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি কেএসআরএম কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। তারা অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, জাহাজের নাবিকদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে বেশি জোর দিয়েছে। তারা জিম্মি নাবিকদের খুব সুন্দরভাবে, সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা- সরকার যেমন বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে ছিলাম; তারাও ঠিক একই রকম অবস্থানে ছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি ব্যতিরেকে নাবিকদের সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনতে আমরা সক্ষম হয়েছি। সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। পরিবারের কোনো কোনো সদস্য আমার সাথে যোগাযোগও করেছে, আমি তাদের সব সময় আশ্বস্ত করেছি। আমরা প্রতি মুহূর্তে খবর রাখছিলাম, কী হচ্ছে না হচ্ছে। কয়েক দফায় বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বল প্রয়োগ না করার জন্য বলা হয়েছে। বল প্রয়োগ করে হয়তো জাহাজটি মুক্ত করতে পারতাম। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে সব নাবিককে অক্ষত ফিরিয়ে আনা যেত কিনা এটি একটি বড় প্রশ্ন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমাদের সবাইকে একটু সজাগ থাকতে হবে। যেসব জায়গায় ঝুঁকি আছে, সেখানে আর্মস গার্ডসহ যাতে যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের পদক্ষেপের কারণে নাবিকরা অক্ষত ফিরে এসেছেন : মেয়র
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে আমাদের সরকার দ্রুততার সঙ্গে এবং সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপের কারণে নাবিকরা অক্ষত অবস্থায় আজ দেশে ফিরে এসেছেন।
নাবিকরা সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন : বন্দর চেয়ারম্যান
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল বলেন, সোমালিয়ান জলদস্যুদের কথা সবাই জানে। অকুতোভয় ক্যাপ্টেন ও নাবিকরা সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অসাধারণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়, ডিজি শিপ, নৌবাহিনী, বিভিন্ন সংস্থা কাজ করেছে। সবার প্রচেষ্টা সফল হওয়ায় সুস্থ সুন্দরভাবে সবাই দেশে ফিরে এসেছেন। আমি মনে করি, এটি দেশের জন্য বিশেষ দিন। এটি দেশের জন্য সম্মানের বিষয়। জলদস্যুদর হাত থেকে আমাদের জাহাজ ও নাবিকরা মুক্ত হয়ে এসেছেন।