রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪ ১২:৫৩ পিএম
শীতলক্ষ্যা নদীজুড়ে কচুরিপানার জটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে নৌকা চলাচল। সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগার ঘাট। প্রবা ফটো
কচুরিপানার জটে গাজীপুরের
শ্রীপুরের গোসিংগার শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রবিবার (১২ে মে) বিকাল
থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে এই ঘাট ব্যবহারকারী হাজার হাজার মানুষ। সবচেয়ে
বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পোশাক শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা
জানায়, শীতলক্ষ্যা নদী এখানে শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলাকে ভাগ করেছে। দুই পাশের মানুষের
নদী পারাপারের জন্য শ্রীপুর অংশে রয়েছে গোসিংগা ও কাপাসিয়া অংশে দরদরিয়া ঘাট। কাপাসিয়ার
উপজেলার চৌড়াপাড়া, দরদরিয়া, ভুলেশ্বর, দেওনা, হাইলজোর গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ ঘাট দিয়ে
নদী পার হয়ে শ্রীপুরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করে। এ ছাড়া কাপাসিয়া থেকে শ্রীপুরের
কারখানায়ও কাজ করতে যায় বহু শ্রমিক। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় বেকাদায় পড়েছে তারা। কারণ
সড়কপথে গন্তব্যে যেতে হলে তাদের পাড়ি দিতে হবে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার
দিকে গোসিংগার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর ওপাশে দরদরিয়া ঘাটও বন্ধ রয়েছে। নৌকা চলাচল
বন্ধ থাকায় দুই ঘাট ঘিরে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলোও বন্ধ। নৌকা না পেয়ে
স্কুল-কলেজের পোশাক পরা শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। পোশাক কারখানার কয়েকজন শ্রমিক
অসহায়ের মতো বসে ছিলেন ঘাটে। তাদের মধ্যে একজন কাপাসিয়ার দেওনা গ্রামের ফরহাদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমি গার্মেন্টসে চাকরি করি। নৌকা নাই তাই আজ অফিসে যেতে পারি নাই। এজন্য
হাজিরা কেটে নেবে।’
শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা
রহমত আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু বাক্কার ছিদ্দিক আকন্দ বলেন, কচুরিপানা
জমে যাওয়ার কারণে শুনেছি নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকার অনেক শিক্ষার্থী কলেজে
আসতে পারছে না।
গোসিংগা ঘাট ইজারাদার
মিন্টু মিয়া বলেন, দৈনিক ৬ হাজার ৮০০ টাকা ওঠাতে হবে। তা না হলে ইজারার টাকা পরিশোধ
করতে পারব না। নৌকা চলাচল বন্ধ, তাই টেনশনে আছি।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম লুৎফর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে ফান্ড দিয়ে কচুরিপানার
জট সরানো সম্ভব নয়। এসব সরাতে বিআইডব্লিউটিএর সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিআইডব্লিউটিএর নরসিংদীর-ঘোড়াশাল
বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা নূর স্বপন বলেনন, ‘শীতলক্ষ্যা নদীর চরসিন্দুর থেকে শ্রীপুরের
বরমী পর্যন্ত নৌ চলাচল বন্ধের বিষয়টি দেখতে হবে। এটা আমাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’