স্বজনদের মাঝে ঈদের আনন্দ
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪ ০৯:২৮ এএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৪ ১১:০৩ এএম
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান নেওয়ার পর এমভি আব্দুল্লাহর নাবিক তানভীর আহমেদ। সংগৃহীত
সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি দশার দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে অবশেষে ঘরে ফিরতে যাচ্ছেন এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিক। আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকাল ৪টায় নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে তীরে উঠে আসবেন বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপ। সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এমভি আব্দুল্লাহ বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করে। সেখানে জাহাজটি পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নেবেন নতুন ২৩ নাবিক।
কেএসআরএম গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম বলেন, কুতুবদিয়া থেকে একটি লাইটার জাহাজে করে নাবিকদের কেএসআরএম লাইটার জেটিতে আনা হবে। সেখান থেকে তারা নিজ নিজ বাড়িতে যাবেন। নাবিকদের নতুন দলটি ইতোমধ্যে কুতুবদিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
সোমালিয়ানা জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হওয়ার আট দিন পর গত ২১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে এসে পৌঁছে এমভি আব্দুল্লাহ। সেখানে জাহাজের ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আনলোড করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল জাহাজটি আল হামরিয়া বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরে যায়। সেখান থেকে চুনা পাথর লোড করে ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। ১৪ দিনের মাথায় জাহাজটি বাংলাদেশের কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছে।
জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে নাবিকদের। অন্যদিকে স্বজনরাও উদগ্রীব হয়ে আছেন কখন মিলিত হবেন প্রিয়জনের সঙ্গে। এক দিন পরেই কাছে পাবেন প্রিয়জনকে, তাই স্বজনদের মাঝে বিরাজ করছে ঈদের আনন্দ। কয়েক নাবিকের স্বজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রিয় মানুষটিকে দেখার জন্য তারা মুখিয়ে আছেন। সেজন্য নাবিকদের নিয়ে আসা জাহাজটি নগরীর সদরঘাট এলাকায় কেএসআরএম লাইটার জেটিতে ভিড়বে। সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তারা।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাজটির সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর মা ফেরদৌস আক্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কাল ছেলে জাহাজ থেকে নামতেছে সেটি জেনে খুব খুশি। সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে সেটি এখনও কাটেনি। কাল ছেলেকে জড়িয়ে ধরার আগে সেই উৎকণ্ঠা কাটবে না।’ ছেলেকে বরণ করতে কাল জেটিতে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাওয়ার ইচ্ছে আছে। তবে শরীরটা খুব একটা ভালো না। তাই আমি যেতে না পারলেও আমার ছোট ছেলেসহ পরিবারের কয়েকজন যাবে।’
একই কথা জানিয়েছেন জাহাজটির থার্ড অফিসার মো. তারেকুল ইসলামের স্ত্রী নুসরাত জাহান। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘প্রিয় মানুষ সুস্থভাবে ফিরে আসছে, এটাই আমাদের কাছে বড় আনন্দের। এটি আমাদের কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বেশি। পরিবারের সবাই মুখিয়ে আছে, কখন তাকে কাছে পাবে। তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবে।’
আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুর কবলে পড়ে এমভি আব্দুল্লাহ। জলদস্যুরা ১৪ মার্চ দুপুর ২টার দিকে জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যায়। সোমালিয়ান উপকূলে দীর্ঘ ৩১ দিন জিম্মি দশায় থাকার পর ১৩ এপ্রিল মুক্ত হন নাবিকরা। মুক্তিপণ দেওয়ার পর ১৩ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে জলদস্যুরা জাহাজ থেকে নেমে যায়। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তায় এমভি আব্দুল্লাহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সোমালিয়ান সমুদ্র উপকূল পাড়ি দিয়ে ২১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছায়।