× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মধুখালীতে প্রতিমায় আগুন

নিহত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা পায়নি তদন্ত কমিটি

ফরিদপুর ও মধুখালী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ২২:২৪ পিএম

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ২২:২৬ পিএম

মধুখালীতে মন্দিরের প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়। ছবি : সংগৃহীত

মধুখালীতে মন্দিরের প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়। ছবি : সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালীতে মন্দিরের প্রতিমায় আগুন ও এর জেরে দুই শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা তদন্তে গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ঘটনার ২৪ দিন পর গত ৭ মে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আলী। দাখিল করা এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দিরের প্রতিমার শাড়িতে আগুন দেওয়ার রহস্যের মীমাংসা হয়নি। তবে যে সন্দেহের জেরে দুই ভাইকে পিটিয়ে গ্রামবাসী হত্যা করেছে, প্রতিমায় আগুনের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি কমিটি।

শুধু তাই নয়, প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে— দুই শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উস্কানির দায় রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ্ আসাদউজ্জামান, সদস্য অজিত বিশ্বাস ও অমৃত কুমার বসু নামের এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের।

ঘটনার সময় আটকে রাখা দুই সহোদর শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই জনপ্রতিনিধিরা তাদের মারধর শুরু করেন। এতে উসকানি পান স্থানীয়রা। ক্ষোভে শ্রমিকদের ওপর হামলে পড়ে গ্রামবাসী। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

তাদের ছাড়াও এ ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার সাংবাদিকের বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনাকালে শতাধিক ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। তাদের বক্তব্যে এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লীর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বেশকিছু বিষয় উঠে এসেছে। তবে যেহেতু এটি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে আমরা বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিসহ অনেকের সম্পৃক্ততা ছিল। এটি বিভিন্ন ভিকটিমদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে মন্দিরের প্রতিমার গায়ে আগুন লাগানোর সঙ্গে দুই সহোদর জড়িত কি-না সে বিষয়ে কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্দিরের প্রতিমার গায়ে কে আগুন দিয়েছে, সেটি খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। দুই সহোদর কিংবা অন্য কোনো শ্রমিক আগুন লাগিয়েছে কি-না সে বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী কারো কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।’

গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামের একটি কালী মন্দিরে আগুন লাগে। এসময় পাশেই পঞ্চপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাতজন শ্রমিক টয়লেট নির্মাণের কাজ করছিলেন। তারাই মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করেছেন— এমন সন্দেহের জেরে পঞ্চপল্লীর একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এসময় শ্রমিকেরা প্রাণ বাঁচাতে স্কুলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাদের বেধড়ক পেটানো হয়। এতে উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘোপেরঘাট গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে আশরাফুল ও তার ভাই আশাদুলের নিহত হন।

এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন।

তাদের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দিরে প্রতিমার শাড়িতে আগুন লাগার ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। আগুন নেভাতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে ওই নির্মাণ শ্রমিকরাও অংশ নেন।

এতে আরও বলা হয়, মন্দির ও স্কুলটি আনুমানিক ৫০ গজের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত। এক মাস ধরে শ্রমিকরা স্কুলে কাজ করছিলেন। মন্দিরটি ছিল অরক্ষিত। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রতিমার শাড়িতে আগুন লাগে। গ্রামবাসী নির্মাণশ্রমিকদের সন্দেহ করে এবং তারা দুই শ্রমিককে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। তারা শ্রমিকদের দায়ী করেন এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। দুই জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ দুই শ্রমিককে মারধর শুরু করলে উসকানি পেয়ে গ্রামবাসীও কক্ষের বাইরে থেকে ইট ছুঁড়তে থাকে ও বিক্ষোভ করে। সেসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আসাদউজ্জামান পুলিশকে খবর দেন।

পরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সবাই এসে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করেন। দুই শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনার তিনটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দুই জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের কর্মকাণ্ড প্রকাশ পায়। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আত্মগোপন করেন এবং গ্রাম পুলিশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী মনে করেন— ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে এ ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের উচিত ছিল শ্রমিকদের মধুখালী থানায় নিয়ে যাওয়া।’

কমিটির কিছু সুপারিশ

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সেগুলো হলো— প্রতিটি মন্দির ও বিদ্যালয় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা; মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করতে উঁচু প্রাচীর তৈরি করা; এমন ঘটনা মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; কোনো এলাকায় একই ধর্মের লোক বেশি বাস করলে সেখানে অন্য ধর্মের কেউ কাজ করতে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত প্রচার-প্রচারণা চালানো। এসব ঘটনায় তিনটি মামলা হয়।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তিনটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা