গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ১৯:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ২০:০২ পিএম
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিফটে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। সোমবার (১৩ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কমিটির সদস্যরা।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে রোগীর এমন মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কমিটির সদস্য মাসুদ রেজা খান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ব্যথিত।’
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন কমিটির প্রধান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল) ডা. মাহমুদা বেগম। মাসুদ রেজা খান ছাড়া কমিটির আরেক সদস্য হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুজ্জামান।
রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই হাসপাতালের লিফটে ৪৫ মিনিটের মতো আটকে থাকার পর গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রানীগঞ্জ বাড়িগাঁও গ্রামের মমতাজ বেগম নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে, লিফটে আটকা পড়ার পর তারা লিফটম্যানদের কল দিলে উদ্ধার না করে দুর্ব্যবহার করেন। পরে ৯৯৯–এ কল করলে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে।
যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, রোগীর স্বজনদের ধাক্কাধাক্কিতে লিফট আটকে যায়। আর এতেই রোগীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য মাসুদ রেজা খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালে লিফটে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় আমরা খুবই ব্যথিত, আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনায় গতকালকের ঘটনার বিস্তারিত বিষয় জানতে হাসপাতালে সরেজমিনে তদন্ত করতে এসেছি। সবকিছু দেখতে, জানতে ও শুনতে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, কেন ঘটল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আমরা জানার চেষ্টা করছি। রোগীটি যে সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন, সেই রোগের কাগজপত্র দেখেছি। মেডিসিন ওয়ার্ডে যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখানকার চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার চিকিৎসার কাগজপত্র দেখেছি এবং পর্যালোচনা করেছি।’
‘তার হৃদরোগের সমস্যা ছিল, এজন্য মেডিসিন বিভাগ থেকে হৃদরোগ বিভাগে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তারা লিফটে ওঠার পরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে রোগীটি মারা যান, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ওই লিফটে আজকে উঠলাম এবং ওই লিফটের মেকানিজম অবস্থা কেমন সেটি আমরা দেখলাম। যারা ইনস্টলমেন্ট করেছে, যারা এটি পরিচালনা করছে, আমাদের গণপূর্ত বিভাগ তাদের সঙ্গে নিয়ে লিফটের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখলাম,’ যোগ করেন তিনি।
মাসুদ রেজা আরও বলেন, ‘আমরা যতটুকু বুঝতে পেরেছি, ওই মুহূর্তে লিফটে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে লিফটে যে অটো রেসকিউ ডিভাইস (এআরডি) থাকে, ওই সময় তা কাজ না করার কারণে এটি সচল হয়নি। আমরা আরও পর্যালোচনা করব বিষয়টি আসলে কীভাবে হয়েছিল। এ বিষয়গুলো আমরা দেখে সিদ্ধান্ত নেব। লিফট যাদের অপারেট করার কথা ছিল এবং ঘটনাটি যখন ঘটে তখন তারা কোথায় ছিল, তারা ডিউটিতে ছিল কি না।’
তদন্ত কমিটির এই সদস্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, তাদের রোস্টার থাকে সেটিও আমরা দেখছি। তাদের হাজিরা তালিকা থাকে তাদের যারা সুপারভিশন করে তাদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। আমরা লিফট অপারেটরদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা এখন সব বিশ্লেষণ করব। যেহেতু এটি সরকারি হাসপাতাল, পাবলিক প্রপার্টি, এজন্য এখানে সার্বক্ষণিক লিফট অপারেটর থাকা উচিত। আমরা দেখছি লিফট অপারেটর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা ওই রোগীটির চিকিৎসা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে সেখানে কোনো গাফিলতি আছে কি না- সেগুলো পর্যালোচনা করছি। তবে আমরা এখন পর্যন্ত যেটি বুঝতে পেরেছি, রোগীটি যেহেতু হার্টের ছিল এএমআই চিকিৎসা হচ্ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এটি মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিল না।’
তদন্ত টিমের আরেক সদস্য উপপরিচালক মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলা হবে। তাদের সঙ্গে টেলিফোনে কিংবা ফোন করে নিয়ে এসে কথা বলা হবে।’
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল) ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, লিফটের অপারেটর, ওয়ার্ডবয়, গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তে লিফটি বন্ধের কারণ, তা কতক্ষণ বন্ধ ছিল, লিফটে আটকা পড়া লোকজন কীভাবে উদ্ধার হলো, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় কারও কোনো অবহেলা ছিল কি-না, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কমিটি
তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারাও তদন্ত শুরু করেছে।’