× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ওষুধ থাকলেও প্রয়োগ নেই চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

শাহিনুর সুজন, চারঘাট (রাজশাহী)

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ১০:২৯ এএম

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রবা ফটো

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রবা ফটো

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তমা আক্তার। সে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রায়পুর গ্রামের হামিদুল ইসলামের মেয়ে। মাঝরাতে তমার চিৎকারে বাবা-মার ঘুম ভাঙে। বাম পায়ের হাঁটুতে জ্বালাপোড়া করা দেখে তেল মালিশ করার সময় সাপে দংশনের দাগ দেখতে পান তারা। পা না বেঁধেই এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

সাপের দংশনে এরকম ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের দংশনের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম সরবরাহ থাকলেও রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। সাপের দংশনের শিকার রোগীরা চিকিৎসার জন্য গেলে চিকিৎসকরা পাঠাচ্ছেন ৩৫ কিলোমিটার দূরের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এজন্য সাপে দংশন করলে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না গিয়ে ওঝার কাছে যাচ্ছে। এতে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে। 

জানা যায়, এই উপজেলায় ২০১৮ সালে সর্বপ্রথম সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়। সেগুলো ব্যবহার না করায় তিন বছর পর ২০২১ সালের শেষে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালের শুরুর দিকে আবারও অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু এ-যাবৎ কোনো দংশনের রোগীর শরীরেই তা প্রয়োগ করা হয়নি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে চারঘাট উপজেলায় সাপের দংশনে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের, পাঁচ বছরে মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের। অথচ এই মানুষগুলো ওঝার কাছে না গিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সময়মতো অ্যান্টিভেনম নিলে হয়তো সুস্থ হতে পারত। কিন্তু অ্যান্টিভেনম সরবরাহের বিষয়টি প্রচার না থাকায় এবং সাপের দংশনের শিকার রোগীরা চিকিৎসা না পাওয়া তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় না।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার তীরবর্তী রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা চারঘাট। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে পদ্মার পানিতে ভেসে আসে নানা রকমের বিষাক্ত সাপ। নদীর পানি কমা শুরু করলে সেই সাপ স্থানীয় এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এই উপজেলা থেকে গত কয়েক বছরে অসংখ্য বিষাক্ত রাসেল ভাইপার উদ্ধার করা হয়েছে। তবু এখানকার মানুষ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা পাচ্ছে না। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আতিকুল হক বলেন, শুধু অ্যান্টিভেনম থাকলেই তা রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা যায় না। অ্যান্টিভেনম রোগীর শরীরে প্রবেশের পর নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তখন তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। বিষয়টি রোগীর স্বজনদের জানালে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম নিতে চান না। এজন্যই কোনো রোগীকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়নি।

যদি কখনও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা না হয় তাহলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা সরবরাহ করে কী লাভ? সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের চারঘাট উপজেলার সভাপতি মো. কামরুজ্জামানের এই প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সাপে দংশনের রোগীদের অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে চাই। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ পাই না। সাপ চিহ্নিত করতে না পারলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। তবে আগামীতে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা