ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন
শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ১০:২০ এএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ১৬:১৩ পিএম
ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়ায় রেললাইন ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণ বাজার। প্রবা ফটো
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা। নগরীর সানকিপাড়ায় জমজমাট বাজার। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। হঠাৎ বাঁশি ফুঁকাচ্ছে এক ব্যক্তি। বলছেন, এই সরেন- ট্রেন আসছে। এর আধা মিনিট পর জামালপুরের বাহাদুর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন মানুষের ভিড় ঠেলে যাচ্ছে ঢাকার দিকে। এ সময় ট্রেন ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বাজারে আসা শত শত ক্রেতা। এ রকম চিত্র শুধু এইদিনের না, প্রতিদিনের। এভাবে বছরের পর বছর ধরে ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়া এলাকায় ট্রেন লাইনের ওপর বসে আসছে কাঁচাবাজার। বিভিন্ন সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এর পরও বন্ধ হয়নি বাজারটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেললাইনের ওপর গড়ে উঠা কাঁচাবাজারটি প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকায় ইজারা দিচ্ছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। বারবার চেষ্টার পর বাজার সরাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
জামালপুরের বাহাদুর ঘাটে ও সরিষাবাড়িতে রয়েছে রেল জংশন। এইসব জংশন থেকে জামালপুর হয়ে ময়মনসিংহ নগরী দিয়ে ট্রেন যায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে। যে কারণে এই রেললাইনটি অনেক ব্যস্ততম। এই ব্যস্ততম রেলপথের সানকিপাড়া এলাকায় রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার। ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন কাঁচাবাজার করতে আসেন এখানে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো বাজারটি বসে রেলপথের ওপর। ট্রেন আসার সময় বাঁশি ফুঁকানো হয়। ক্রেতারা সরে যায় রেলপথ থেকে। রেল চলে গেলে আবার লাইনে ফিরে আসে ক্রেতারা। এভাবেই প্রায় ৫০ বছর ধরে চলে আসছে রেলপথ ঘিরে ৩০০ ফিটজুড়ে থাকা এ বাজারটি। বাজার এলাকায় ট্রেনে বিভিন্ন সময় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এরপরও বাজারটি সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সিটি করপোরেশন। বরং প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকায় ইজারা দেয় তারা।
সূত্র জানিয়েছে, এ বছর ২১ লাখ টাকায় এই বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। রেললাইনজুড়ে গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজারসহ শতাধিক দোকাপাট। আর এসব ব্যবসায়ী দোকান বসিয়েছেন। এসব দোকানের ভাড়া আদায় করছেন ইজারাদারের লোকজন। প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। হানিফ মেম্বার ও জলিল নামে দুই ব্যক্তি এ টাকা আদায় করেন। তারা জানান, বাজারটি মোটা অঙ্কের টাকার মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে বৈধ নিয়মে ইজারা নেওয়া হয়েছে। ইজারার টাকাই তারা আদায় করছেন। এর বাইরে তারা আর কিছু বলতে রাজি হননি।
রেলক্রসিংয়ের গেটকিপার সিরাজুল ইসলাম জানান, চোখের সামনে এসব দেখলেও বলার সাহস নেই তাদের। প্রতিবাদ করলে গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে জানান তিনি। তাদের নির্ধারিত গেটের ব্যারিয়ারের পরও আরও একটি ব্যারিয়ার বসিয়েছে বাজার কর্তৃপক্ষ। ওই গেট ব্যারিয়ার পরিচালনা করেন তারা। ট্রেন আসার সময় তাদের লোকজন বাঁশি ফুঁকিয়ে রেললাইন থেকে সরিয়ে দেন লোকজনদের।
শুধু সানকিপাড়া বাজার নয়, এর সঙ্গে মিন্টু কলেজ এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রেলপথের ওপর বসানো হয়েছে হাটবাজার। আর এসব বাজার থেকে সিটি করপোরেশন ও এলাকার প্রভাবশালীরা আদায় করছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, আজ নয় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এই বাজারটি রেললাইনের ওপর বসানো হয়েছে। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনাও ঘটেছে এই বাজার এলাকায়। এই বাজারে অন্য বাজারের তুলনায় টাটকা মাছ ও তরকারি পাওয়া যায় বলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে এই বাজারে।
জানতে চাইলে করপোরেশনের বাজার শাখার পরিদর্শক জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজার বসানো বিষয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। তবে সানকিপাড়া বাজার ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে রেললাইন থেকে সরে বসাতে। কিন্তু বারবার বলার পরও বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান। বরং রেলের ঝুঁকি নিয়েই তারা বাজার বসান।
রেললাইনের ওপর বাজার বসানোর বিষয়টি স্বীকার করে ময়মনসিংহ রেলজংশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট নাজমুল হক জানান, রেলের জমিতে বাজার বসানো বা সরানোর দায়িত্ব তার না। কে বাজার বসায়, আর কে এসব বাজার থেকে টাকা আদায় করে এটা সবারই জানা। রেলের জায়গা দখলমুক্ত হোক এটা তিনিও চান।