সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ০৯:৪১ এএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ১৬:১৪ পিএম
মৌসুমের রসালো ফল লিচু আসতে সপ্তাহখানেক বাকি। তবে কিশোরগঞ্জে আগাম জাতের কিছু লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন ওঠায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লিচু। সাধ্যের বাইরে হওয়ায় কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। কিছু ক্রেতা মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে কিনলেও ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই।
বাগানমালিকরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে গাছে গাছে লিচুর প্রচুর মুকুল এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ মার্চ মাসের ২০ ও ২১ তারিখে বৃষ্টি হয়ে অধিকাংশ মুকুল ঝরে যায়। অবশিষ্ট মুকুল থেকে গুটি ও লিচু হয়ে গেলেও বৃষ্টির কোনো দেখা মেলেনি। তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরায় অন্তত ৪৫ শতাংশ লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক লোকসানের শঙ্কায় রয়েছে তারা।
ব্যবসায়ী হামিদ মিয়া বলেন, আগাম জাতের কিছু লিচু গাছ থেকে নামানো শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় শুরু থেকেই ফলন কম ছিল। পরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টিতে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে একদিকে লিচুর সংখ্যা কমে গেছে, অন্যদিকে লিচু বাছাই করতে করতেই দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকও বেশি লাগায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যে টাকায় বাগান কিনেছিলাম ১০০ লিচু ৩০০ টাকা করে বিক্রি করলেও লাভ হবে না। কিন্তু আমরা এক হাজার লিচু খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। তারা বেশি দামে বিক্রি করবে।
রবিবার (১২ মে) সরেজমিনে জেলা শহরের স্টেশন রোড, বড়বাজার, কাচারি বাজারসহ বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে লিচু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এই লিচু বছরের প্রথম ফল হিসেবে শখ করে বেশি দাম দিয়ে কিনছেন কেউ কেউ। আবার দাম শুনেই পিছু হটছেন অনেকে।
বিক্রেতারা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আগাম লিচুর ভালো চাহিদা রয়েছে। রসালো ফল এখন কিছু মিললেও স্বাদ তেমন ভালো নয়। বেশি লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা বাজারে আনছেন। লিচু কিনতে এসেছেন জেলা শহরের বত্রিশ এলাকায় বাসিন্দা রাজীব সরকার। তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ করেই বাজারে লিচু দেখে চোখ আটকে গেল। কিন্তু দাম চড়া। ১০০ লিচুর দাম চাচ্ছে ৪৫০ টাকা। পরে দরদাম করে ৪০০ টাকায় কিনলাম।
আতিকুল ইসলাম রাকিব নামে একজন লিচু বিক্রেতা বলেন, লিচুগুলো গাজীপুর কাপাসিয়া এলাকার একটি বাগানের। এগুলো আগাম জাতের লিচু হওয়ায় প্রতি বছরই মৌসুমের শুরুতে বাজারে ওঠে। এবারও উঠেছে। মৌসুমের প্রথম ফল হলেও স্বাদে-মিষ্টিতে অনন্য। তবে দাম একটু চড়া।
বড়বাজারের ব্যবসায়ী তানভীর হাসান বলেন, ‘আমরা বাগান থেকে কিনে এনেছি ৩০০ টাকা দরে। আমাদেরও তো কিছু লাভ করতে হবে। প্রথম দিন এক হাজার লিচু এনেছি। বাজারে নতুন ফল দেখে অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লিচু শেষ।
আগাম লিচুর বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী মেরাজ নাছিম বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড খরায় লিচু ঝরে পড়ে ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাগানমালিকরা ভয়ে আগেই লিচু নামিয়ে ফেলছেন। তবে দেশি জাতের লিচু একটু আগেই বাজারে আসে। অন্যদিকে অল্প হলেও কিছু টাকা পাচ্ছে বাগানমালিকরা।