এসএসসির ফল
নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪ ১৭:০৭ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ১৯:৩৯ পিএম
শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ স্কুলের সামনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠা করা বিদ্যালয় ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’ থেকে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজন বাদে ৪৮ জনই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। রবিবার (১২ মে) সকালে ফল প্রকাশের পরই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। মায়ের পরামর্শে বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদের স্মরণে বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন হুমায়ূন আহমেদ।
শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১৪ জন, মানবিক শাখা থেকে ১৬ জন এবং বিজ্ঞান শাখা থেকে ১৯ জন। তাদের মধ্যে ৪৮ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। শুধু বিজ্ঞান শাখার একজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৪.৮৩ পেয়েছে।’
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বলে, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। আমাদের সফলতার সকল কৃতিত্ব শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের। এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতে পেরে আমরা গর্বিত।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবপুরে তিন একর জায়গা নিয়ে ১৯৯৬ সালে এ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের করা নকশা অনুযায়ী দৃষ্টিনন্দন স্কুলভবন নির্মাণের পর মাত্র ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০০৬ সালে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। নিজ অর্থায়নে এবং পরিকল্পনায় বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তিনি প্রায় সময়ই ছুটে আসতেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে। তাদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। পড়াশোনার খোঁজ-খবর নিতেন এবং স্কুলটি ঘিরে হুমায়ূন আহমেদের দেখা নানারকম স্বপ্নের বর্ণনা তাদের শুনাতেন। কিন্তু এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান হুমায়ূন আহমেদ।
হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন তার সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওনসহ বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা নিরলস পরিশ্রম করে প্রতি বছরই প্রত্যেকটি পরীক্ষায় শতভাগ সফলতা অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। বর্তমানে ৩৪২ জন শিক্ষার্থী ও ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু পড়াশোনাই নয়, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় উপজেলা-জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখায় ২০১৯ সালে নিম্নমাধ্যমিক এবং ২০২২ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিভুক্ত করা হয়েছে স্কুলটি। সর্বশেষ জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও শতভাগ সফলতা অর্জন করে হুমায়ূন আহমেদের শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা।