নারায়ণগঞ্জ (শহর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪ ১৬:৪৮ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ১৭:২৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মো. গিয়াসউদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রবা ফটো
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) মামলায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মো. গিয়াসউদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১২ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন গিয়াসউদ্দিন। পরে তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এ বিষয়ে আদালতে দুদকের প্রসিকিউশন শাখার সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২ নভেম্বর গিয়াসউদ্দিনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন তিনি। অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই করে গিয়াসউদ্দিনের নামে ১৫ কোটি ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৭৯ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ২০ কোটি ৯৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
২০০৮-২০০৯ করবর্ষ থেকে ২০২১-২০২২ করবর্ষে পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে গিয়াসউদ্দিনের ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৩ টাকা ব্যয়ের তথ্য পায় দুদক।
এসব ব্যয়ের বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে সঞ্চয় হিসাবে ৬ কোটি ৮১ লাখ ২২ হাজার ৮৫৬ টাকা, গৃহ সম্পত্তি থেকে আয়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫০ টাকা, বাবার কাছ থেকে হেবা মূল্যে প্রাপ্ত ১১ শতাংশ জমিসহ ৭ কোটি টাকার দালান, ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ মোট ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩৭ টাকার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়।
তবে, গিয়াসউদ্দিনের আয়কর নথি অনুযায়ী, কাসসাফ শপিং সেন্টার-১ নির্মাণ ব্যয় প্রদর্শনকালে ২০২১-২০২২ করবর্ষে মার্কেটের ৮০২ বর্গমিটার নির্মাণে ১ কোটি ৪১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩১ টাকা বিনিয়োগের বিষয়ে বৈধ উৎস পায়নি দুদক। যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়।
এর আগে, ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুদক উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩১ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও অনুমোদিত চার্জশিটে টাকার অঙ্ক কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২০ সালের ২ নভেম্বর মো. গিয়াসউদ্দিনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন তিনি।