সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪ ১৪:১৯ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ১৪:২২ পিএম
চালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মজিদ। প্রবা ফটো
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে দুই ধাপে ১০০ জনের জন্য ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত চাল মৎস্য দপ্তরকে জানিয়ে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিতরণের কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তা করেননি।
দুই ধাপের তালিকার ১০০ জনের মধ্যে ৪৪ জন জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো জেলের নাম ২-৩ বার ব্যবহার করেও চাল আত্মসাৎ হয়েছে। ভুয়া টিপসই ব্যবহার ও চাল না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন জেলেরা।
দিয়াবাড়ী গ্রামের স্বপন রাজবংশীর নাম দুই তালিকায় মোট তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসেবে তার জন্য মোট বরাদ্দ ২৪০ কেজি চাল। অথচ স্বপন রাজবংশীর স্ত্রী ভারতী রাজবংশী বলেন, ‘আমরা ৩-৪ মাস আগে একবার ৩০ কেজির এক বস্তা চাল পেয়েছি। আর কোনো চাল পাইনি।’ সট্টি গ্রামের আব্দুর রহিমের নাম দুই তালিকাতেই রয়েছে। তার নামে বরাদ্দ মোট ১৬০ কেজি। আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমি জীবনেও জেলে কার্ডের কোনো চাল পাইনি।’
এ ছাড়া দিয়াবাড়ী গ্রামের পবন রাজবংশী, পরি রাজবংশী, নিরাঞ্জন রাজবংশী, সুজন রাজবংশী, সুরেশ রাজবংশী ও জিতেন রাজবংশী এবং কল্যাণপুর গ্রামের সুশান্ত রাজবংশী, সুরেশ রাজবংশী, গোবিন্দ রাজবংশী, শংকর রাজবংশী, পরেশ রাজবংশী ও রবি রাজবংশী প্রত্যেকে ৮০ কেজির জায়গায় ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এভাবে অনেকের নাম একাধিকবার থাকার পরও চাল কম পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, ‘পরবর্তী ধাপের ৪ মেট্রিক টন চাল চেয়ারম্যান বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন।’ চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদ চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বরাদ্দের চেয়ে জেলেদের সংখ্যা বেশি থাকায় একজনের চাল কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।’ এ ছাড়া একই নাম একাধিকবার থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।
দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসান মতিউর রহমান বলেন, ‘চাল বিতরণকালে ছিলাম না। পরবর্তীতে বিতরণ করা হয়েছে মর্মে জানালে তালিকায় স্বাক্ষর করেছি।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইকরাম বলেন, ‘চাল বিতরণের বিষয়টি আমাদের জানানোর কথা থাকলেও তিনি (চেয়াম্যান) জানাননি। কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মধ্যে পাঁচজন চাল পাননি ইউএনও স্যারের কাছে রিপোর্ট দিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তাকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আমিও তদন্ত করছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’