গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪ ১৪:০৭ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ১৬:০০ পিএম
হাসপাতালের লিফটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর মারা গেছেন মমতাজ বেগম নামে এ রোগী। রবিবার গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল হাসপাতালে। প্রবা ফটো
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিফটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোগীর স্বজনরা বলছেন, লিফটের ভেতরে আটকে পড়ার পর লিফটম্যানদের ফোন দিলে উদ্ধার না করে দুর্ব্যবহার করে। পরে ৯৯৯ কল করলে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে।
রবিবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃত মমতাজ বেগম গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রানীগঞ্জ বাড়িগাও গ্রামের শারফুদ্দিনের স্ত্রী।
গাজীপুর তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সকালে মমতাজ বেগমকে বুকে ব্যথা অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে মেডিসিন বিভাগ হতে ৪ তলায় নেওয়ার জন্য লিফটে তোলা হয়। এ-সময় লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। পরে লিফটম্যান ও ফায়ার সার্ভিসের লোক এসে উদ্ধার করে। লিফটে আটকা সবাই সুস্থ ছিল কিন্তু উনি অসুস্থ থাকায় মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফায়ার সার্ভিস ও লিফটম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। কারও কোনো গাফিলতি আছে কি না সেটি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মমতাজ বেগমের মেয়ে শারমিন বলেন, ‘আমার মা সকালে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে সকাল ৬টায় তাজউদ্দীন হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রথমে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায় হার্টে সমস্যা। পরে ১১ তলা থেকে থেকে লিফটে ৪ তলার হৃদরোগ বিভাগে নেওয়ার কথা বলে। তাদের কথামতো লিফটে উঠলে ৯ তলার মাঝামাঝি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আমি, আমার মামা, ভাইসহ কয়েকজন মাকে নিয়ে ভেতরে ছিলাম। আমাদের দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমরা তিনজন লিফটম্যানকে ফোন দেই, কিন্তু তারা গাফিলতি করে। ফোনে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৪৫ মিনিট আমরা ভেতরে অবস্থান করি। উপায় না পেয়ে ৯৯৯ ফোন দেই। ফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে মৃত অবস্থায় মাকে উদ্ধার করে। লিফটম্যানদের গাফিলতির কারণে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো দায়িত্ববোধ নেই।’