রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ২৩:২৮ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ২৩:৩৩ পিএম
নগরীর চেকপোস্ট এলাকা থেকে শুরু করা হয় ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। প্রবা ফটো
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খালের প্রাণ ফেরাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে বিডি ক্লিন। শনিবার (১১ মে) সংগঠনের এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী নগরীর চেকপোস্ট থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত শ্যামাসুন্দরীর পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
স্বেচ্ছাসেবীরা খালে ফেলা প্লাস্টিক, কাঁচ, গৃহস্থলির বর্জ্য, লতা-পাতা, কচুরিপানা অপসারণ করে। সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণের গাড়ি ও ভ্যানের মাধ্যমে শ্যামাসুন্দরী থেকে তোলা বর্জ্যগুলো ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিডি ক্লিনের এ উদ্যোগ দেখতে শ্যামাসুন্দরী খাল পাড়ে সকাল থেকে ভিড় জমান হাজার উৎসুক জনতা। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ফলে খালে পানি প্রবাহের গতি বেড়েছে। সেই সঙ্গে মশার উৎপাত কমবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে রংপুর শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে শ্যামাসুন্দরী খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকরণ, জনসচেতনতা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও শপথ পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
এ সময় তিনি বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরী খালের আশপাশে বসবাসরত সবাইকে সচেতন হতে হবে। খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর নতুন করে ময়লা ফেলা এবং পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য অবৈধ স্যুয়ারেজ সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে। এই খালকে দখল-দূষণমুক্ত দৃষ্টিনন্দন খালে পরিণত করতে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীকে সবচেয়ে বেশি আন্তরিকতার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এই খাল রক্ষায় সংস্কারসহ আধুনিকায়নে প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেন তাহলে খালটিকে সবচেয়ে সুন্দর লেকে পরিণত করা সম্ভব হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশে নদীখেকো, খালখেকো, বালুখেকো, কৃষিজমি খেকোর ছড়াছড়ি। এসব খেকোদের কারণে আমাদের পরিবেশ প্রকৃতি আজ হুমকিতে। তাদের কাছ থেকে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ রক্ষার আগে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। আমি মনে করি শ্যামাসুন্দরী খালকে একটি আধুনিক সুবিধা সম্বলিত লেক পার্কে পরিণত করা সম্ভব। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর মানুষজন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ফিরে পাবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম রশিদুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, বিডি ক্লিনের সমন্বয়ক জহুরুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
১৮৯০ সালে তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকি বল্লভ সেন তার মা শ্যামাসুন্দরী’র স্মরণে এ খাল খনন করেছিলেন। খালটি রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে ১৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এলাকাভেদে এর প্রস্থ ২৩ থেকে ৯০ ফুট। এ খালটি উত্তর পশ্চিমে কেল্লাবন্দ ঘাঘট নদী থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বুক চিরে মাহিগঞ্জ সাতমাথা রেলগেট এলাকায় কেডি ক্যানেল স্পর্শ করে মিশেছে খোকসা ঘাঘট নদীতে। রংপুর সিটি করপোরেশন ও বিভাগ হওয়ার পর শ্যামাসুন্দরী খাল ঘেঁষে, খালের জায়গা দখল করে তৈরি হয়েছে বড় বড় অট্টলিকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট ও ঘর-বাড়ি। এসবের প্রতিদিনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শ্যামাসুন্দরী খালে। এছাড়া পয়ঃনিস্কাশনের সংযোগ এ খালে দেওয়ায় পানি দূষিত হয়ে পড়েছে।