× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমের বিশেষ ট্রেন নিয়ে সেমিনার

কথায় কথায় বেরিয়ে এলো রেলের যত ভূত

রাজশাহী অফিস

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ২২:৫৩ পিএম

আমের বিশেষ ট্রেন নিয়ে সেমিনারে রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। প্রবা ফটো

আমের বিশেষ ট্রেন নিয়ে সেমিনারে রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। প্রবা ফটো

ট্রেনে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাবে রাজশাহীর আম। আর সেজন্য চালু করা হবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’। এ লক্ষ্যে শনিবার (১১ মে) এক সেমিনারের আয়োজন করেন বিভাগীয় কমিশনার। তবে সেমিনারের এক পর্যায়ে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে উঠে আসতে শুরু করে রেলের অব্যবস্থাপনার নানা চিত্র। তারা জানান, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রেনে আমসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে অনীহা রয়েছে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের। রেল ও ট্রেনের সুনাম ফিরিয়ে আনার জন্যে দ্রুত এসব অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে।

এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলার আম ব্যবসায়ীরা এবং জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনারসহ সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

সেমিনারে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালুর বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন রাজশাহীর বিভিন্ন জেলার আম ব্যবসায়ীরা। প্রসঙ্গক্রমে বক্তারা জানান, ট্রেনগুলো বলতে গেলে নিয়মিতই গন্তব্যে পৌঁছতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা বেশি সময় নিচ্ছে। কোন ট্রেন কোন স্টেশনে আছে, তা যাত্রীদের জানার বা দেখার ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) ব্যবহারে যা খুব সহজেই করা সম্ভব। ট্রেনের টিকিটের মতো পুরো রেলকেই ডিজিটালাইজেশন করার দাবি জানান তারা। 

প্রসঙ্গত, আগামী ১০ জুন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে আম নিয়ে চলাচল করবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। আম পরিবহনের জন্য ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর সঙ্গেও চুক্তি করবে রেল। পাশাপাশি পান, সবজি ও গবাদি পশু পরিবহনের জন্যও ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। 

সেমিনারের শুরুতেই রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবীর গত চার বছরে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহন ও তা থেকে রেলের আয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘২০২০ সালে প্রথম ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়। এ সময় মোট ১,১৯৯ মেট্রিক টন আম পরিবহন করে রেল আয় করে ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬ টাকা। ২০২১ সালে ২২৩৫ মেট্রিক টন আম পরিবহন করে আয় করে ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৯২৮ টাকা। ২০২২ সালে ১৭৮ মেট্রিক টন আম পরিবহন করে আয় করে ২ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে ৩৮২ মেট্রিক টন আম পরিবহন করে আয় করে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। গত ৪ বছরে আম পরিবহন থেকে আয় হয়েছে মোট ৪৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা। পরিবহন করা হয়েছে ৪ হাজার মেট্রিক টনের মতো আম। রাজশাহী বিভাগে গত বছর আম উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ মেট্রিক টনের ওপরে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই সময়টাতে সড়কপথে চাপ কমাতে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালু করেছি। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পরিবহনে যেখানে ১৫ থেকে ২০ টাকা খরচ হয়, সেখানে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহনে খরচ হয় মাত্র ১ টাকা ৪৭ পয়সা। ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত আমের নগণ্য একটি অংশই পরিবহন হচ্ছে।’ 

রেল সচিব হুমায়ুন কবিরে উপস্থাপনায় উঠে আসে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের দুর্দশার চিত্র। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারও আলোচনায় অংশ নেন এবং ট্রেনের আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার আমচাষি শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে দেশের বাইরে আম রপ্তানি করছি। ঢাকার অদূরে শ্যামপুরে আম রপ্তানির জন্য একমাত্র প্যাকেজিং কারখানা রয়েছে। ওই কারখানায় ২০০ কেজি আম পাঠাতে আমাদের ১০ হাজার টাকা পরিবহন ব্যয় হয়। এই ব্যয় কমিয়ে আনতে এয়ারপোর্ট স্টেশনে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটির স্টপেজ দিতে হবে। আমদানিকারকরা সেখান থেকে তাদের গাড়িতে করে আম নিয়ে যাবেন।’ তিনি দাবি করেন, ট্রেন যদি দেরি করে, তবে আম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আড়ানি ও সরদহ স্টেশনে রেলছাউনি নেই। এই স্টেশনগুলোতে আম নিয়ে গেলে বর্ষা-বৃষ্টির সময় তা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমচাষি মুঞ্জের আলম বলেন, ‘আম ট্রেনে ওঠানো এবং নামানো ঝামেলার কাজ। এই ঝামেলা দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রেনে আম পরিবহনের পর তা ঢাকার মোকাম বা বড় বাজারগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা না করা গেলে এ উদ্যোগ সফল হবে না। কুলিদের দৌরাত্ম্যও কমাতে হবে।’ 

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, ‘বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বাড়িতে বাড়িতে চিঠি পৌঁছে দেয়। ডাক বিভাগ যদি স্টেশন থেকে তাদের গাড়িতে করে বাজারগুলোতে এই আম পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে, তাহলে তাদের লাভ হবে, ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরাও উপকৃত হবেন। 

এ সময় সভায় উপস্থিত সব বক্তাই ট্রেনের বিলম্ব বা সিডিউল ব্রেকের ফলে যাত্রী দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন। এজন্য সবাই রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণের দাবি জানান। সেই সঙ্গে প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে লাগেজ ভ্যান বা বগির ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।

রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, ‘ডাবল লাইন এক দিনে করা সম্ভব না। তবে মিটারগেজ লাইনে ডাবলগেজ এবং সিঙ্গেল লাইনে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রেনে লাগেজ ভ্যান দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে ৫০টি লাগেজ ভ্যান আমদানি করা হয়েছে। যার মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভ্যানও রয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন রুটে ট্রেনের চাহিদা থাকলেও বগি ও ইঞ্জিনের স্বল্পতা রয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুর কারখানায় ২৮০০ শ্রমিকের দরকার, সেখানে আছে মাত্র ৮৫০ জন শ্রমিক। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা