চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ২১:৩৬ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ০০:৪২ এএম
এমভি আব্দুল্লাহ। ফাইল ফটো
সোমালিয়ার জলদস্যুর কবল থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) রাতে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করেছে। আগামী সোমবার (১৩ মে) বিকালে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে জাহাজটির। কুতুবদিয়ায় পৌঁছানোর পর দুদিন পণ্য খালাস করে বুধবার (১৫ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড়বে। পরে সেখানে বাকি পণ্য খালাস করা হবে।
জাহাজটির মালিক পক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে। জাহাজটি সোমবার বিকালে কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে এসে পৌঁছবে। কুতুবদিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখানে জাহাজ থেকে কিছু পণ্য খালাস করা হবে। এরপর বুধবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসবে।’
এর আগে, সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হওয়ার আট দিন পর গত ২১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারমিয়া বন্দরে এসে পৌঁছায় এমভি আব্দুল্লাহ। এরপর ওই বন্দরে জাহাজে থাকা ৫৫ হাজার টন কয়লা খালাস করা হয়। কয়লা খালাস করার পর ২৭ এপ্রিল জাহাজটি আল হারমিয়া বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরে যায়। সেখান থেকে চুনা পাথর লোড করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়।
প্রসঙ্গত, আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুর কবলে পড়ে এমভি আব্দুল্লাহ। এরপর জাহাজটি ছিনতাই করে জলদস্যুরা ১৪ মার্চ দুপুর ২টার দিকে জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ ৩১ দিন জিম্মি দশায় থাকার পর ১৩ এপ্রিল মুক্ত হন নাবিকরা। মুক্তিপণ দেওয়ার পর ১৩ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে জলদস্যুরা জাহাজ থেকে নেমে যায়। এরপর জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হন ২৩ নাবিক। ছাড়া পাওয়ার পরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নিরাপত্তায় জাহাজটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সোমালিয়ান সমুদ্র উপকূল পাড়ি দিয়ে ২১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারমিয়া বন্দরে এসে পৌঁছায়।