বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৯:৪০ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ১৯:৪৩ পিএম
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজুর গত পাঁচ বছরে আয় বেড়েছে ১২২ গুণ। দুই লাখ টাকার আয় এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকায়। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পরে তার নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ১০ হাজার ৪৩১ গুণ।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া হলফনামা এবং ২০১৯ সালের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর শ্যালক ফিরোজ আহম্মেদ রিজু। পঞ্চম শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন তিনি। এবারও ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। একদিকে চেয়ারম্যান আরেক দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের শ্যালক এই দুই মিলে রিজু তার ব্যবসার পরিধির সঙ্গে সম্পদও বাড়িয়েছেন বহুগুণে।
রিজু পেশায় ব্যবসায়ী। মেসার্স ফিরোজ কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন তিনি। এই ব্যবসা থেকে ২০১৯ সালে তিনি বছরে আয় করতেন দুই লাখ টাকা। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়ে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে তিনি বাড়ি ভাড়া থেকে ৪৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ২ কোটি ৪০ হাজার ৬০ হাজার টাকা এবং সম্মানী ভাতা থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করেন।
পাঁচ বছরের ব্যবধানে রিজুর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। এরমধ্যে নগদ টাকা বেড়েছে ১০ হাজার গুণ। ২০১৯ সালে তার কাছে নগদ টকা ছিল ১৩ হাজার ৮৬৪ টাকা। এখন তার হাতে নগদ টাকা রয়েছে ১৪ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার ২৮৯ টাকা। গত পাঁচ বছর আগে ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা জমা দেখালেও এবার তিনি ব্যাংকে জমা রাখা টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেননি। এছাড়া তার ১৫ লাখ টাকা দামের একটি প্রাইভেট কার, দুই ভরি সোনা এবং ৬০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র আছে; যা ২০১৯ সালের হলফনামাতেও উল্লেখ করেছিলেন।
এমপির শ্যালক রিজুর ২০১৯ সালে ৩০ লাখ টাকা দামের একটি ভবন ছিল। এবারের হলফনামায় তিনি ওই ভবনের পাশাপাশি ৪ শতক অকৃষি জমির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এই জমির মূল্য তিনি উল্লেখ করেননি।
উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর রিজুর ব্যাংক ঋণের পরিমাণও তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৯ সালে বগুড়ার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে তিনি সিসি লোন ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এবারের হলফনামায় একই ব্যাংকে তিনি ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫ টাকা ঋণ দেখিয়েছেন।
এদিকে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে এমপির শ্যালক রিজুর পাশাপাশি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এমপির ছেলে হুসাইন শরীফ সঞ্চয় ও শাশুড়ি মোছা. ফাতেমা বেগম। এছাড়া মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা।
ফিরোজ আহমেদ রিজু বলেন, ‘প্রতিপক্ষ আগে থেকেই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছে আমার ব্যাংক ঋণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করবেন। কারণ ব্যাংকের ঋণ সমন্বয় করা ছিল না। এ কারণে সাপোর্টিং হিসেবে মা ও ভাগ্নেও মনোনয়নপত্র তুলেন। যদিও আমার ব্যাংকের ঋণ ইতোমধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে, তারপরও তাদের নামে মনোনয়নপত্র উত্তোলণ করায় তা জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন না।’