সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৬:৩০ পিএম
ফরিদপুরের সালথায় প্রকাশ্যে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রবা ফটো
ফরিদপুরের সালথায় পাট, পেঁয়াজ ও আমন ধান আবাদের উর্বর জমির মাটি প্রকাশ্যে কেটে নেওয়া হচ্ছে। তিন-চার মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেকু মেশিন দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। প্রশাসন মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নিলেও বন্ধ হচ্ছে না মাটি কাটা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় টাকা-পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করেই মাটির ব্যবসা করছেন তারা।
প্রতি বছর এই উপজেলায় শত শত একর ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এ কারণে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব মাটি কেটে অবৈধ ট্রলিতে করে নেওয়া হয়। মাটি বহনকারী এই ট্রলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কাঁচা-পাকা রাস্তা। অতিরিক্ত ট্রলি চলায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাগুলোতে কাঁদা হয়। এতে ঘটছে দুর্ঘটনাও। মাটি ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ী চক্র ফসলি জমির মাটি নিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন। তারা দালালের মাধ্যমে কৃষকদের লোভে ফেলে ফসলি জমির মাটি কিনছেন। ৮-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে। এখানে না হচ্ছে ফসল, না করা যাচ্ছে মাছ চাষ।
সরেজমিন দেখা যায়, রাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়নের খাড়দিয়া গ্রামের অবুজ মিয়া ওই এলাকার ফসলি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ট্রলিতে করে ইটভাটায় পাঠাচ্ছেন। এছাড়া তিনি ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রাম থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন। প্রতিটি জায়গা থেকে মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছেন ৮-১০টি ট্রলি।
এছাড়া মাটি কেটে বিক্রি করছেন নুরুল ইসলাম নামে এক ইউপি সদস্য। তিনি ভাওয়াল ইউনিয়নের কামদিয়া থেকে রাতে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ৫-৬টি ট্রলিতে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এ জমির চারপাশে পাটের চারা বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। তবে নুরুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার ভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না।
ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়ায় সাহেব আলী, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের খলিশপট্টিতে শানাল ও রাসেল, বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইলের সুজন, সোনাপুর ইউনিয়নের মিনাজদিয়ায় মুরাদ ও সিরাজ, গট্টি ইউনিয়নে সাখাওয়াতসহ আরও অনেক ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন মাটির ব্যবসা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ব্যবসায়ী বলেন, যেসব এলাকা থেকে তারা মাটি কাটেন, সেসব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করছেন।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বালী বলেন, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির খবর পেলেই আমরা সেখানে ছুটে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিই। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।