লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৬:০৯ পিএম
ইটভাটার মাটিবাহী ট্রাকের বালুতে পথচারী, দোকানপাট ও মানুষজনের অবস্থা নাকাল। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আইন না মেনে ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রভাবশালী কয়েকজন বসতবাড়ি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। এসব ইটভাটায় মাটির জোগান আসে আশপাশের ফসলি জমি থেকে। কৃষক বা মালিকের কাছ থেকে এক স্তর পরিমাণ মাটি কেনা হলেও ভেকু মেশিন দিয়ে জমিটি পুকুর বানিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোদ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দিলু একটি ইটভাটার মালিক। তার ভাইসহ স্বজনরা কয়েকটি ইটভাটা পরিচালনা করছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাবে জমির মালিক ও কৃষকরা মুখ খুলতে পারছেন না। এ ছাড়া উপজেলার ভোলাকোট, ভাদুর, নোয়াগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৯টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। ভোলাকোটের নাগরাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ গজের মধ্যেই ইটভাটা, দেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি একসঙ্গে তিনটি ইটভাটা পরিচালনা করছেন। বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেঁষে ইটভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাপুর চৌরাস্তা-পানিওয়ালা সড়কের পাশে ভোলাকোট ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার ও তার ভাই বিল্লাল হোসেন আল মদিনা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং নামে একটি ইটভাটা পরিচালনা করেন। ইটভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের গাছপালা বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে। দেলোয়ার নিজেদের ভাটাসহ অন্যান্য ভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে নাগরাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ইটভাটাগুলোয় মাটিবাহী পিকআপ যাতায়াত করে। পিকআপ চলাচলের সময় বালুতে পথচারী ও দোকানপাটের মানুষজনের অবস্থা নাকাল। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধুলাবালির কারণে মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না। বিদ্যালয়ের ৮০ থেকে ৯০ গজের মধ্যেই জাহাঙ্গীর আলমের তিনটি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার ইট-মাটি বহনকারী পিকআপভ্যান ও ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সোনাপুর-পানিওয়ালা সড়ক, আকরতমা-দেহলা সড়ক, নাগরাজারামপুর সড়কসহ গ্রামীণ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে পথচারীসহ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। বৃষ্টি হলে সড়কগুলোতে সৃষ্ট গর্ত ও জমে থাকা বালু দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ফসলি জমির পাশে ইটভাটা গড়ে তোলা আইনবিরোধী হলেও প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে চলা এসব ভাটা বন্ধে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শামছুদ্দিন নামে এক জমির মালিক বলেন, আমি এক কোদাল মাটি বিক্রি করেছি। তাও বর্ষায় নেওয়ার কথা। এখন এসে দেখি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এক কোদালের স্থলে ২-৩ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হয়েছে।
সৈয়দ আহম্মদ নামে আরেকজন বলেন, ইটাভাটা মালিকরা আমাদের সর্বনাশ করেছে। তারা জমি পুরো পুকুর করে ফেলে। তারা বলেন, ‘ফসল চাষ না করে মাছ চাষ করা উত্তম’।
ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার একটি ইটভাটা রয়েছে। আমার লোকজন এটি পরিচালনা করছেন। অনেকে পুকুরের মতো করে মাটি কেটে ভাটায় নিয়ে গেলেও আমি এক কোদালের বেশি নিই না।
লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, রামগঞ্জে ১৯টি ইটভাটা ছিল। লাইসেন্স না থাকায় দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি ডিসি-ইউএনওরা দেখবেন।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন ইসলাম বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি অবৈধ। মাটি কাটার ঘটনায় অভিযান চালমান। বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা পরিচালনার বিষয়টি আমার জানা নেই।