নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ০৯:১৫ এএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ১১:২০ এএম
রাকিব উদ্দিন। প্রবা ফটো
ভাগ্য বদলের আশায় তিন মাস আগে দুবাই পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. রাকিব উদ্দিন। সেখানে গিয়ে চাকরিতে যোগদানও করেছিলেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। যেখানে উৎসবমুখরতা নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা, সেখানে তার নিথর দেহ ফিরেছে কফিনবন্দি হয়ে। তার মৃত্যুতে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে বাড়িতে।
শুক্রবার (১০ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়া উপজেলার নিজ বাড়িতে রাকিবের দাফন সম্পন্ন হয়।
রাকিব উদ্দিন হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরইশ্বর রায় হোতারাগো বাড়ির মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাকিব উদ্দিন চতুর্থ। দ্বীপ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিন মাস আগে ভাগ্য পরিবর্তনে দুবাই পাড়ি জমান। একটি কোম্পানিতে চাকরি নেন শ্রমিকের। গত ১৮ এপ্রিল কর্মক্ষেত্রে লিফট দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন রাকিব। দীর্ঘ নয় দিন আইসিইউতে ছিলেন। সবশেষ ২৬ এপ্রিল আইসিইউতেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাকিবের মরদেহ নিজ বাড়িতে এলে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জানাজা শেষে ওমর মুন্সী মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়।
রাকিবের বড় ভাই ইরাক উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই কাজে গিয়ে লিফট দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়। তারপর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। নয় দিন পর সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। আমাদের সংসার এলোমেলো হয়ে গেল। ভাইকে হারিয়ে আমরা সবাই দিশাহারা অবস্থায় আছি।’
রাকিবের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। রাকিব পড়াশোনা রেখে পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিল। কিন্তু তিন মাসের মাথায় আজ সে কফিনবন্দি হয়ে ফিরেছে। তার মা রেজিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। আমিও ছেলেকে হারিয়ে পাগলের মতো হয়ে আছি।’
জানাজায় অংশ নেওয়া হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদ উদ্দিন বলেন, ‘রাকিব খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। মরদেহ বাড়িতে আনার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল পড়ে যায়।’
হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুব মোর্শেদ লিটন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাতিয়ার অনেকেই ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন দেশে গেছেন। রাকিবও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য দুবাই গিয়ে তিন মাসের মধ্যে নিহত হয়ে ফিরল। সংসারের হাল ধরতে সে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিল। তবে ভাগ্য তার সহায় হয়নি। তাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষবিদায় দিয়েছে সবাই।’