টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী
গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৪ ১৩:৪৩ পিএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৪ ১৯:৫২ পিএম
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘দাড়িয়াকুল আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে রয়েছেন ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি : ফোকাস বাংলা
মানুষকে নিয়ে যৌথভাবে খাদ্য নিশ্চয়তা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সারা বাংলায় সমবায় ছড়িয়ে দিতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন করে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
শুক্রবার (১০ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘দাড়িয়ারকুল একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কষ্টই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সংগ্রামের দিকে ধাবিত করে। তিনি দুঃখী মানুষের কষ্ট সইতে পারতেন না।’
পরিবারগুলো ভাগ হয়ে গেলে জমিতে আইল পড়ে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমবায়ের মাধ্যমে যা উৎপাদন হবে, সেখান থেকে কেউ সঞ্চয় করতে চাইলেও পারবেন। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।’
বিনা জামানতেও ঋণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচন করে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। নেতারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে সমবায় পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন।’
‘বয়স হয়ে গেলে যেন কেউ কষ্টে না ভোগে সে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। পেনশন স্কিম চালালে ভাতার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব,’ যোগ করেন তিনি।
বৃক্ষরোপণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু দলের (আওয়ামী লীগ) কর্মী নয়। দেশের প্রত্যেক মানুষের উচিত পহেলা আষাঢ় একটি করে গাছ লাগানো।’
কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ায় যত অনাবাদি জমি আছে, সেগুলোতে চাষ করার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘এসব জমি সমবায়ের আওতায় এনে চাষ করা হবে। যার যার জমি তিনি ফসলের ভাগ পাবেন।’
অবসর পেলে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে টুঙ্গিপাড়া এসে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
এর আগে গণভবন থেকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে সকাল ১০টা ৬ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের অন্য শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় এক প্রার্থনা সভায় যোগ দেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খানও।
বিকালে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।