রিফাত আবির, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৪ ১৭:০৪ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৪ ১৭:২৯ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের দড়িভেলানগর গ্রামে নিজের কলাক্ষেতে জাকির হোসেন। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের দড়িভেলানগর গ্রামের প্রবাসফেরত জাকির হোসেন। প্রথমে অল্প কিছু জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ করেন। কিন্তু সফলতার মুখ না দেখায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে শুরু করেন কলা চাষ। স্বল্প খরচে, অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জাকির।
জাকির হোসেন উপজেলার দড়িভেলানগর গ্রামের বাসিন্দা। তার কলার বাগান ঘুরে দেখা যায়, ১৫০ শতক জমিজুড়ে দৃষ্টিনন্দন কলার বাগান। বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে কলার ছড়ি। চোখ জুড়ানো এমন দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কলার বাগানে দুজন শ্রমিক নিয়মিত পরিচর্যা করলেও প্রতিদিন কয়েকবার বাগানে এসে সময় দেন তিনি।
জাকির হোসেন বলেন, আমি প্রথমে ৩০ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। কিন্তু সবজি চাষে সফল না হওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক উদ্ভাবিত জি-৯ জাতের কলা চাষ শুরু করি। কলার ফলন ভালো দেখতে পেয়ে আরও ১২০ শতক জমিতে ব্যাপক পরিসরে কলা চাষ শুরু করেছি। এ জাতের একটি কলাগাছ থেকে চার-পাঁচটি চারা জন্ম নেয়। এগুলো ধীরে ধীরে বড় গাছে পরিণত হয়ে প্রতিটি গাছে ভালো ফলন হয়। আমার বাগানে উৎপাদিত কলা বাজারে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। পাইকাররা বাগানে এসেই কলা কিনে নেন। গত রমজানে ভালো চাহিদা থাকায় কিছু কলা বিক্রি করে বেশ ভালো লাভ করেছি। বর্তমানে বাগানে যে পরিমাণ গাছ রয়েছে এবং তাতে যা ফলন হয়েছে আমি আশাবাদী কয়েক লাখ টাকার কলা বিক্রি করতে পারব।
দড়িভেলানগর গ্রামের বাসিন্দা রাসেদুল ইসলাম বলেন, জাকির ভাইয়ের বাগান দেখে উৎসাহ পাচ্ছি। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে প্রথম পর্যায়ে ছোট পরিসরে হলেও একটি কলার বাগান করার চেষ্টা করব। স্থানীয় কৃষক হাশেম কাজী বলেন, মালয়েশিয়ান প্রবাসফেরত জাকির প্রথমে সবজি চাষ করলেও সফলতার মুখ দেখতে না পেয়ে কলার বাগান করে ভালো আয় করছেন। এলাকায় তার বাগানের কলার বেশ চাহিদা আছে। কলা চাষ করা হলে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন বলেন, কলার বাগানটি আমি পরিদর্শনে গিয়েছি। আমরা কৃষক জাকির হোসেনকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতে যদি উনি আরও বড় পরিসরে কলার বাগান করতে চান, আমরা পরামর্শের পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তর প্রদত্ত সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করব।