চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৪ ২০:৫২ পিএম
আপডেট : ০৭ মে ২০২৪ ২১:২৯ পিএম
মঙ্গলবার হালদা নদীর হাটহাজারীর গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকায় ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত জেলেরা। প্রবা ফটো
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। মঙ্গলবার (৭ মে) সকাল ১০টার দিকে মা মাছ হালদায় ডিম ছাড়ে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। তবে এগুলো নমুনা ডিম নাকি পূর্ণমাত্রায় ছাড়া ডিম সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবছর পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়ার আগে সাধারণত নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। এবার এর আগে নমুনা ডিম না ছাড়ায় বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন ডিম সংগ্রহকারীরা।
হালদা নদীর হাটহাজারীর গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকায় ডিম সংগ্রহ করেছেন শহীদুল ইসলাম। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়ে। এরপরই আমরা ডিম সংগ্রহ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু ডিম সংগ্রহ করেছি। তবে দিনের বেলায় খুব বেশি ডিম পাওয়া যায়নি। তাই আশা করছি, রাতের জোয়ারে পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়বে মা মাছ। রাতের জোয়ারে বেশি পরিমাণে ডিম পাওয়া যাবে।’
শুধু শহীদুল ইসলাম নন, তার মতো আরও অনেকে নৌকা নিয়ে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডিম সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, হালদা নদীর হাটহাজারী ও রাউজান অংশের আজিমের ঘাট, অংকুরি ঘোনা, কাগতিয়ার মুখ, গড়দুয়ারা নয়াহাট, বিনাজুরী সোনাইর মুখ, রাম দাশ মুন্সির ঘাট, মাছুয়া ঘোনা, সত্তার ঘাট নাপিতের ঘাট অংশে শতাধিক নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহ করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। তবে আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকায় এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় কম নৌকা ডিম সংগ্রহে নিয়োজিত হয়।
ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম জানান, ডিম সংগ্রহের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু এবার ওই সময়ের আগেই ডিম ছেড়েছে মা মাছ। তাই অনেকে প্রস্তুত হতে পারেনি। এ কারণে এবার ডিম সংগ্রহে নৌকা তুলনামূলক কম নেমেছে। সব মিলিয়ে ১০০ থেকে ১১০টি নৌকা ডিম সংগ্রহে নিয়োজিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
সাধারণত বর্ষা মৌসূমের শুরুতে (এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে) হালদায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। ওই সময় পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথি বা জোতে যখন নদীতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন মা মাছ ডিম ছাড়ে। বিশেষ করে, পূর্ণিমা অথবা অমবস্যার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয় এবং এর সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামে, তখন মা মাছ ডিম ছাড়ে।
তবে এবার পরিপূর্ণ অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগেই ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বজ্রসহ যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়া দরকার মঙ্গলবার সকালে সেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়নি। যে কারণে এবার মঙ্গলবার মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে নাকি পূর্ণমাত্রায় ডিম ছেড়েছে, সেটি নিশ্চিত নন হালদা বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘হালদায় এখন যে ডিম পাওয়া যাচ্ছে এটি নমুনা ডিম নাকি পূর্ণমাত্রার ডিম, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সকালে যে ডিম ছেড়েছে সেটি নমুনা ডিমের চেয়ে বেশি। তবে পূর্ণমাত্রায় ছাড়া ডিমের তুলনায় কম। এখন রাতে জোয়ারে যদি বেশি পরিমাণে ডিম পাওয়া যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব সকালে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ডিম ছাড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। নদীতে মা মাছ থাকলে প্রচুর ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কী পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে, সেটি এখনও আমরা হিসাব নিতে পারিনি। জেলেদের কাছ থেকে এখন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো নৌকায় ২ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছে, কেউ এক কেজি, আবার কেউ একেবারেই সংগ্রহ করতে পারেনি। সবার কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পর মোট ডিম সংগ্রহের তথ্য পাওয়া যাবে।’
হালদা নদীর রামদাশ মুন্সিরহাট পয়েন্টে আছেন হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. ফারুক মায়েদুজ্জামান। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডিম দেখতে পান জেলেরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহ শুরু করেন। তবে কে কী পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করেছেন, সেটি এখনও নিশ্চিত হয়ে জানা যায়নি। এই মুহূর্তে আমরা রামদাশ মুন্সিরহাট পয়েন্টে আছি, সেখানে ২৬ থেকে ২৭টি নৌকা নিয়ে জেলেরা ডিম সংগ্রহ করছেন।‘