মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৪ ১৯:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের আখিরারটাড়ী গ্রামে বিয়ের দাবিতে রিফাত নামের এক তরুণের বাড়িতে অনশন করেন এক তরুণী। ওই তরুণী তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রেমিকের বাড়িতে আসেন। তবে ৫ লাখ টাকায় মিমাংসা করে বিয়ে না করে বাড়ি ফিরে গেছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের পাগলারহাট সংলগ্ন জালাদিপুর গ্রামের ওই তরুণী আখিরারটাড়ী গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে মো. রিফাত হোসেনের বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে আসার পর ওই তরুণী রিফাতকে খুঁজতে থাকেন এবং রিফাতের পরিবারসহ স্থানীয়দের জানান, রিফাতের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এখন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় সে তার বাড়িতে এসেছে। বিয়ে না করা পর্যন্ত বাড়ি ফিরবেনা। রিফাতের সঙ্গে তার বিয়ে নাহলে তার মরদেহ বাড়িতে ফিরবে।
একই অভিযোগ ছিল ওই তরুণীর পরিবারেরও। তাদের দাবি, আগের সংসার যখন রিফাতের জন্য ভেঙেছে তখন এই ছেলেকেই বিয়ে করতে হবে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা।
বিয়ের দাবিতে রিফাতের বাড়িতে মেয়ে উঠেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শতশত উৎসুক জনতা রিফাতের বাড়িতে ভিড় জমায়। এতে রিফাতের পরিবার আত্মগোপনে চলে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা না হওয়ার স্থানীয় সাংসদ সদস্য পর্যন্ত পৌঁছায়। অবশেষে গত শুক্রবার ওই তরুণী তার বাবার বাড়িতে ফিরে যান। এসময় স্থানীয়দের জানানো হয়েছিল, খুব শিঘ্রই পারিবারিকভাবে রিফাত এবং ওই তরুণীর বিয়ে হবে। কিন্তু পরে স্থানীয়রা জানতে পারেন, ওই তরুণীকে বিয়ে এবং মামলা না করার শর্তে পাঁচ লক্ষ টাকায় মিমাংসা হয়েছে।
ওই তরুণীর চাচা ইয়াসিন আলী বলেন, ‘ছেলে বিয়ে করতে না চাওয়ায় মেয়ের অনত্র বিয়ের শর্তে ছেলে পাঁচ লক্ষ টাকা এমপির কাছে জমা দেবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওনার কাছ থেকে আমাদের টাকা নিয়ে আসতে হবে।’
এ বিষয়ে মিঠাপুকুরের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, ঘটনার পর সেদিন মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।