চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ২১:২৯ পিএম
সংস্কারাধীন কালুরঘাট সেতুতে ধাক্কা দেয় লাইটারেজ জাহাজ এমভি সমুদা-১। প্রবা ফটো
এমভি সমুদা-১ নামের একটি লাইটারেজ জাহাজের ধাক্কায় সংস্কারাধীন কালুরঘাট সেতুর স্প্যানের ‘আংশিক ক্ষতি’ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কালুরঘাট সেতুর ১০ নম্বর স্প্যানে ধাক্কা লেগে এই ক্ষতি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশলী (সেতু) জিসান দত্ত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কালুরঘাট সেতুতে একটি লাইটারেজ জাহাজের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে সেতুর ১০ নম্বর স্প্যানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর এ কে খান ডক ইয়ার্ড থেকে লাইটারেজ জাহাজটি ভেসে এসে কালুরঘাট সেতুকে ধাক্কা দেয়। জাহাজটিও আটকে যায়। এতে স্প্যানের আংশিক ক্ষতি হলেও সেতুটির ওপর ট্রেন চলাচলের কোনো সমস্যা হবে না। ইতোমধ্যে নৌ-পুলিশ জাহাজটিকে জব্দ করেছে।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে শুধু রেল যোগাযোগের জন্য ১৯৩১ সালে এই কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যমান ৬৩৮ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু ১৯৬২ সালে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেই থেকে সেতু দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণভাবে রেল ও ভারী যান চলাচল করছে। সর্বশেষ ২০০৪ সালে সেতুটির ভারী সংস্কার এবং এক দশক ধরে কয়েক দফা হালকা মেরামত করা হলেও সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বুয়েট দলের তত্ত্বাবধানে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেতুর সংস্কার করে। সর্বশেষ গতবছরের ১ আগস্ট চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু সংস্কারের কাজের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এছাড়া জরাঝীর্ণ এই কালুরঘাট সেতুর পরিবর্তে পাশেই নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। চারলেন বিশিষ্ট নতুন এই কালুরঘাট সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। আগামী জুনে নতুন এই সেতু নির্মাণে কোরিয়ান দাতা সংস্থা ইডিসিএফ সঙ্গে ঋণচুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। নকশা অনুযায়ী ১১ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কালুরঘাট সেতুর বিআইডব্লিওটিএ’র ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স হিসেবে উচ্চতা হবে ১২ দশমিক ২ মিটার এবং মূল সেতুটি হবে ৭০০ মিটার।