× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আগের মতো আর চোখে পড়ে না ‘কালা ময়ূর’

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:২৯ এএম

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ১৪:৩১ পিএম

পুরুষ মথুরা (বামে) এবং নারী মথুরা (ডানে)। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

পুরুষ মথুরা (বামে) এবং নারী মথুরা (ডানে)। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

‘কালা মথুরা’ বা ‘কালা ময়ূর’ হারিয়ে যাচ্ছে এ দেশের প্রকৃতি থেকে। অনেক আগেই এটি যুক্ত হয়েছে বিপন্ন পাখির তালিকায়। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাখিটি চোখে পড়ে কালেভদ্রে। এ দেশের কোথাও কোথাও এ পাখি ‘কালি মথুরা’, ‘কালা ময়ূর’ কিংবা ‘কালি ময়ূর’ নামেও পরিচিত। সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘টকরু’, খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাছে ‘খ্রট’, মারমা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রই রাতা’ এবং চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে ‘সানগ্রু’ নামেও পরিচিত। কোথাও কোথাও পাখিটি ‘ঝাড়বো কুরো’ ও ‘পাকরা ময়ূর’ নামেও পরিচিত। 

এ পাখির আকার-আকৃতি অনেকটা মোরগ বা মুরগির মতো। তাই এটিকে দেখে অনেকেই মোরগ বা মুরগি বলে ভুল করে থাকেন। পুরুষ ও নারী প্রজাতির ‘মথুরা’র দৈহিক আকৃতি, আকার ও রঙের পার্থক্য অনেক। পুরুষ মথুরার পিঠ কালচে নীল রঙের পালকে আবৃত, পেছনের পালকগুলো অনেকটা সাদা নকশার মতো এবং লেজের পালকগুলো কালো ও অনেকটা লম্বা। পুরুষ মথুরার ঠোঁটের উপরিভাগ এবং ঝুলন্ত লতিকা গাঢ় লাল ও মাথায় শিংয়ের মতো সুন্দর ঝুঁটি থাকে। বর্ণচ্ছটা পুরুষ মথুরার সঙ্গে নারী মথুরার দৈহিক পার্থক্য হলো নারী মথুরার পালক অনেকটা অনুজ্জ্বল বাদামি রঙের। শরীরের নিম্নাংশ ধূসর রঙের এবং মাথায় ঝুঁটি থাকে না। পুরুষ ও নারী দুই প্রজাতির মথুরারই চোখ পিঙ্গল থেকে কমলা-বাদামি। পা ও পায়ের পাতা বাদামি রঙের। মুরগি ও বন মুরগির মতো এরা মাটিতেই বিচরণ করে থাকে। প্রতি বছর মার্চ মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কালা মথুরার প্রজননকাল। এ সময় নারী মথুরা ডিম দেয়।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, পাকিস্তান, তিব্বত, ভুটান প্রভৃতি দেশে প্রচুর মথুরা দেখা যায়। একসময় বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় পাখিটির অবাধ বিচরণ ছিল। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মথুরা এখনও সহজলভ্য হলেও বাংলাদেশে এ পাখিটি একেবারে বিপন্ন পাখির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের গভীর অরণ্যে কালেভদ্রে মথুরার দেখা মেলে। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইনে মথুরা বা কালা মথুরা সংরক্ষিত একটি প্রাণী।

প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা তার একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেন, বাল্যকালে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন বনাঞ্চলে সব সময় ‘কালা মথুরা’ বা ‘কালা ময়ূর’কে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া বনাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ কালা মথুরার বাস ছিল। দেশের পাহাড়ি বন এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সেই সঙ্গে মানুষের অবাধ শিকারের ফলে মথুরা বিপন্ন পাখির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এ ছাড়া সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘন জঙ্গল পরিষ্কার করে চা বাগান সম্প্রসারণের কারণেও মথুরা হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে। এটিকে রক্ষা করার কোনো পদক্ষেপও নেই। বর্তমানে এ পাখিটির দেখা পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। একসময় চা বাগান এলাকায়ও অসংখ্য মথুরার দেখা মিলত।

প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২ হাজার ৬শ মিটার উচ্চতায় পাহাড়ে বসবাস করে পাখিটি। নির্জন-ঝোপঝাড়ে বসবাস করাই এদের পছন্দ। গভীর বনাঞ্চলে এরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়। খুব ভোরে ও সন্ধ্যায় পুরুষ ও নারী কালা মথুরা একসঙ্গে খাবারের সন্ধানে বের হয়। সারা দিন গভীর বনাঞ্চলে নির্জন পরিবেশে থাকে এরা। গাছের নিচু ডালে বসে অবসর কাটাতে পছন্দ করে লাজুক এই পাখিটি। বনে জনমানুষের উপস্থিতি বা আনাগোনা টের পেলে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

একসময় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম, শেরপুরের গজনী বন, সিলেটের আসাম সীমান্তের দুর্গম পাহাড়, মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হবিগঞ্জের সাতছড়ি বনাঞ্চল ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে এদের আধিক্য ছিল। বনের ফল, ডুমুর, বটফল, বিভিন্ন গাছের বীজ, ছোট সাপ, পিঁপড়া, উইপোকা, গিরগিটি, পোকামাকড় ইত্যাদি খেয়ে কালা মথুরা জীবনধারণ করে। প্রতিটি নারী মথুরা গড়ে ৬ থেকে ৯টি ডিম দেয়। কালা মথুরা এক রাজকীয় পাখি হিসেবে পাহাড়িদের কাছে সুপরিচিত।

পাখি গবেষকদের মতে, কালা মথুরা কালচে ভূচর পাখি। এদের দৈর্ঘ্য গড়ে ৬২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের ডানা গড়ে ২২ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ৩.৫ সেন্টিমিটার, পা ৭.৫ সেন্টিমিটার, লেজ ২৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। প্রতিটি মথুরার গড় ওজন ১ কেজি থেকে ১.৩ কেজি। 

বনাঞ্চলের রাজকীয় প্রজাতির বিপন্ন পাখি কালা ময়ূর বা কালা মথুরাকে আমাদের প্রকৃতির স্বার্থে টিকিয়ে রাখা আবশ্যক। এর জন্য প্রয়োজন বনাঞ্চল রক্ষা করা এবং এর শিকার বন্ধে প্রাণী আইনের যথাযথ প্রয়োগ। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা