× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিত্রাংয়ে ম্লান সাড়ে ছয় হাজার কৃষকের স্বপ্ন

কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২২ ১৪:১৩ পিএম

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৩৫ পিএম

এক কৃষক তার জমির ধান পরীক্ষা করছেন। ছবি : প্রবা

এক কৃষক তার জমির ধান পরীক্ষা করছেন। ছবি : প্রবা

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর কবলে কক্সবাজার জেলার ৬ হাজার ২২৮ কৃষক পরিবারের স্বপ্ন ম্লান হয়ে গেছে। লবণাক্ত পানিতে এসব কৃষকের সোনালী ধান, সবজি ও পানের বরজ  নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলার আট উপজেলায় ৫১৮ একর জমিতে রোপণ ধান, ৪৩ একর সবজি চাষ ও ৩২ একর জমিতে পানের বরজ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১০ কোটি বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কবির হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের পর একে একে ক্ষতির চিহ্ন ভেসে উঠছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। জেলার ৫১৮ একর ধান লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ৪৩ একর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ২০ লাখ ৯৭ হাজার। প্রায় ৩২ একর জমিতে অবস্থিত পান চাষ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানের বরজের প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৬ হাজার ২২৮টি।

লোনা পানিতে পুড়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। ছবি : প্রবা

উপ-পরিচালক কবির হোসাইন জানান, কক্সবাজারের উখিয়া, রামুর খুনিয়াপালংয়ের গোয়ালিয়া, টেকনাফের বাহারছড়া, কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া এলাকায়  ক্ব্যাষতি হয়েছে বেশি।

উখিয়ার রেজুনদী সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, ধান ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতির দৃশ্য। উখিয়ার জালিয়াপালংয়ের বাইজ্যাখালী প্যারা, উত্তরপাড়া, লম্বরীপাড়াসহ একাধিক স্থানে লবণাক্ত পানিতে এসব ফসল পুরোটাই লালচে হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

লম্বরীপাড়া এলাকার মীর আহমদ বলেন, ‘আমার ১০ একর জমির মধ্যে ৫ একর ধান ও ৫ একর মৎস্য খামার ছিল। খামারের প্রচুর মাছ ছিল এবং মাঠ ভর্তি ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। কিছুদিন পর ধানের ফসল ঘরে উঠত। কিন্তু নিয়তি সব কেড়ে নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সেদিন রাতে অস্বাভাবিক লবণপানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খালের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে লবণাক্ত পানি ঢুকে সব তছনছ হয়ে যায়।’

একই কথা বলেছেন, ওই এলাকার ইমাম হোসেনের ছেলে আবু সৈয়দ। তিনি বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন শেষ। আমি এখন পথের ভিখারী। আমার সব ফসলি জমি নোনা জলে জ্বলে গেছে। এখন আমি কি করব। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই।’

উখিয়ার পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের মোক্তার মিয়া বলেন, ‘আমার গ্রামের ৬৫ একর জমির ধান লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার একটি মৎস্য ঘেরসহ অন্যদের ২০টি মৎম্য খামার বাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ। এখন আমরা নিঃস্ব। আমরা চাই রেজুখালের বাঁধটি মেরামত করে দিলে আগামীতে এলাকার মানুষ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে।’

ফসলের জমিতে এখনও জমে আছে লোনা পানি। ছবি : প্রবা

শুধু তারাই ক্ষতিগ্রস্ত নয়। তাদের মত কৃষক সৈয়দ হোসেন, আব্দুল আলম, ফরিদ আলম, আলমগীর আজিজ উল্লাহ, উত্তরপাড়ার মকবুল আহমদ, গোরামিয়াসহ প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কৃষি পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার।

উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম সৈয়দ আলম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হঠাৎ এভাবে সাগরে পানি এসে উপকূলে হানা দেবে কেউ কল্পনা করেনি। রাতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে রেজুখালের বাইজ্যাখালী প্যারা, উত্তর সোনাইছড়ি লম্বরীসহ পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। এতে প্রাণহানি না হলেও ক্ষতি হয় কৃষকের ফসলি জমি। এ কারণে ঘূর্ণিঝড়ে অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা