রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২২ ২১:৩১ পিএম
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২ ১৩:০৬ পিএম
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ। ছবি : প্রবা
গত ১০ বছরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রোগীদের প্রায় অর্ধেক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে মাত্র ১০টি শয্যা থাকায় সব রোগীকে সেবা দেয়া যাচ্ছে না বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) দশ বছর পূর্ণ করল রমেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক রমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দোতলায় ১০ শয্যার আইসিইউ বিভাগের উদ্বোধন করেন। বিভাগটি চালুর পর এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৭৮ জন রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৪৩ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৫ জন। সুস্থতার হার শতকরা ৪৫ দশমিক ৪৪ ভাগ।
আইসিইউতে চিকিৎসা নেয়া রোগীর স্বজন দিনাজপুর চিরিরবন্দরের শাহীন মিয়া বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে আমার রোগী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে রোগী চিকিৎসা করানোর অভিজ্ঞতা আছে আমার। এখানকার ডাক্তার-নার্সরা খুবই আন্তরিক।’
আরেক রোগীর স্বজন ঠাকুরগাঁওয়ের মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা ভালো হলেও রোগীর স্বজনদের বসার জন্য কোনো জায়গা নেই। আইসিইউ-এর সামনে ছোট একটি রাস্তায় অনেক মানুষ বসে থাকে, ঘুমায়। এ ছাড়া বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। দুর্গন্ধে ভেতরে যাওয়া যায় না, বাথরুমের লাইট জ্বলে না, গোসল করার কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো।’
আইসিইউর সিনিয়র স্টাফ নার্স সুরুজিৎ বর্মন বলেন, ‘আমরা সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাই। নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কারণে আমরা সফলতা অর্জন করতে পেরেছি।’
রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউর রেজিস্ট্রার ডা. জামাল উদ্দিন মিন্টু বলেন, ‘আমি দশ বছর ধরে এ ইউনিটে কাজ করছি। একটি জিবিএসের রোগী দিয়ে আইসিইউতে সেবা প্রদান শুরু হয়েছিল। দশ বছরে আমরা ৩ হাজার ৩৫ রোগীকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে বাড়ি ফেরাতে পেরেছি। আমাদের আইসিইউতে সেবাগ্রহীতার যে চাপ রয়েছে, এ জন্য কমপক্ষে ৫০ শয্যা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া পোর্টেবল এক্সরে যন্ত্র, ইকো মেশিনসহ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা গেলে আরও মানসম্মত সেবা দেয়া সম্ভব হবে। আমাদের প্রতিটি বেডের রোগীকে একজন করে নার্স সার্বক্ষনিক দেখাশোনা করে। প্রতিটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ডাকা মাত্রই তারা এসে সেবা প্রদান করেন। ফলে আইসিইউ বিভাগ অনেক ভালো করতে পেরেছে।’
আইসিইউ বিভাগের প্রধান ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. মোঃ সদরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমাদের লোকবল কম। আইসিইউর জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসক নেই। প্রতিটি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে আলাদা রুটিন করে তাদের ডিউটি দেয়া হচ্ছে। আমরা স্বল্প জনবল নিয়ে আইসিইউ পরিচালনা করছি। রোগীর চাপের তুলনায় এখানে শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল। অনেক রোগী আছে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে তাদের সামর্থ্য নেই। এ জন্য শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরী হয়ে পড়েছে।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরিফুল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালের আইসিইউ আরও ১০টি শয্যা বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্যান্ডামিক প্রিপারডনেস ও রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিট্যান্স দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে পেডিয়াট্রিক্স আইসিইউ ও অবসটেট্রিক্স আইসিইউ চালু করা হবে। এ জন্য জায়গা নির্ধারণ, সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে আইসিইউ ইউনিটে দেখা যায়, দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আইসিইউর সামনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে আইসিইউ গেট। এ উপলক্ষে হাসপাতালের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা আইসিইউ পরিদর্শন করেন। আগতদের মিষ্টিমুখ করান বিভাগটিতে কর্মরত নার্সরা। সেই সঙ্গে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনদের মিষ্টিমুখ করান তারা।
এদিকে আইসিইউ বিভাগের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিকেলে নগরীর একটি হোটেলে বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়।
আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. মো. সদরুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বিমল রায়। রেজিস্ট্রার ডা. জামাল উদ্দিন মিন্টুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরিফুল হাসান।