সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২২ ১৮:০৯ পিএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০০ পিএম
বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র। ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বেশি পরিত্যক্ত থাকা একটি কূপ পুনরায় খনন করে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ প্রেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এই কূপ থেকে দৈনিক পাঁচ-সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) সকালে এই কূপে গ্যাসের মজুদ থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদনে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠান।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আরও কিছু কার্যক্রম শেষে শিগগির আমরা বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের ১ নম্বর কূপ থেকে উৎপাদন শুরু করতে পারব। খনন শুরুর আগে ডিপিপিতে প্রতিদিন ওই কূপ থেকে পাঁচ থেকে সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে বলে ধরা হয়েছিল। তবে এখন মনে হচ্ছে আরও বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে।’
সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের অধীন বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে দুটি কূপ রয়েছে। ১৯৯৯ সালে গ্যাসক্ষেত্রের ১ নম্বর কূপ থেকে উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৪ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে ফের উৎপাদন শুরু হলেও বছরের শেষ দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর ১০ সেপ্টেম্বরে আবার কূপটিতে খননকাজ শুরু করে বাপেক্স।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের অধীন আরও কূপ খননের কাজ চলছে। প্রকৌশলী শাহিনুর বলেন, ‘আগামী বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে সব প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সিলেট গ্যাস ফিল্ডস থেকে প্রতিদিন ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা রাখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলায় ৮ ও গোয়াইনঘাটে ১০ নম্বর কূপও খনন করা হচ্ছে। এ ছাড়া রশিদপুরে একটি পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এ সব প্রকল্পের কাজ শেষে গ্যাস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।’
এদিকে বিয়ানীবাজার ফিল্ড এবং ব্লক-১৩ ও ১৪-এর আওতায় ডুপিটিলা, বাতচিয়া, হারারগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সাউথে ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ কাজও শেষের পথে বলে জানান তিনি।
গ্যাসের রাজ্য হিসেবে পরিচিত সিলেটের হরিপুরে ১৯৫৫ সালে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মেলে। বর্তমানে দেশে ২৮টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যার সিংহভাগ সিলেটে অবস্থিত। এ সব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। আরও ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় মজুদ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেন।