মুন্সিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৪৭ এএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২২ ১০:৩৩ এএম
অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেন সজল। ছবি; সংগৃহীত
মুন্সিগঞ্জ সদরে প্রেমঘটিত কারণে শিক্ষার্থীকে মারধর ও অপহরণের হুমকির অভিযোগে করা মামলায় এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ নভেম্বর) রাতে মুন্সিগঞ্জ শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মনির হোসেন সজল। তিনি মুন্সিগঞ্জ কলেজের সাবেক খণ্ডকালীন শিক্ষক। বর্তমানে তিনি শহরের একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় অভিযুক্ত মনির হোসেন ওই শিক্ষার্থীর পথরোধ করেন। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করেন ও শিক্ষার্থীর হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এ সময় মনির ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণের হুমকি দেন বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীর বাবা মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করেন, 'কোচিং সেন্টারে পড়ার সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হয়। এরপর থেকে শিক্ষক মনির আমার মেয়েকে প্রেম নিবেদন করার চেষ্টা করেন ও বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমার মেয়ে তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।' ওই শিক্ষকের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মুন্সিগঞ্জ শহর থেকে গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখানে চলে যান বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার আমার মেয়ে সিরাজদিখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে তার মায়ের সঙ্গে ওই কেন্দ্রে আসে। কেন্দ্রের সামনে তাদের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের গতিরোধ করে মেয়ের হাত ধরে টেনে হিচড়ে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে মারধর করেন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন মনির। এ সময় তার মা বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। পরীক্ষা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আমার মেয়েকে অপহরণ করবেন বলেও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার করা মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।