ফেনী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৫২ পিএম
ইয়াছিন মিয়া। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পাঁচ মাস পর সেই ইয়াছিন মিয়ার লাশ মিলেছে, যিনি মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আগুনের দৃশ্য লাইভে দেখিয়েছিলেন।
বুধবার (৯ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১টায় ডিপো কর্তৃপক্ষ তার লাশ বুঝিয়ে দেয়। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে তিনি। চার বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে ইয়াছিন ছিলেন তৃতীয়।
বাবা বদিউল আলম বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে বিএম কনটেইনার ডিপোতে গাড়িচালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন ইয়াছিন। দুই বছর আগে পদোন্নতি পেয়ে হন লরিচালক। বিস্ফোরণের সময় ইয়াছিন ডিপোতেই ছিলেন।
গত ৫ জুন রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আর ইয়াছিনের সন্ধান পাচ্ছিল না পরিবার। ঘটনার পরপরই সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বাবা বদিউল আলম। খুঁজেছিলেন বিভিন্ন হাসপাতালেও, কিন্তু কোথাও ছেলের সন্ধান পাননি। তখন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনাও দেন তিনি।
ইয়াছিনের চাচাত ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বিস্ফোরণের রাতে ডিপোতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইয়াছিন। অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য ইয়াছিন মোবাইল ফোনে লাইভ দেখান। সেই লাইভ দেখে ইউসুফ তার কাছ থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানতে ফোন দিয়েছিলেন। তখন ইয়াছিন মুঠোফোনে বলেছিলেন, ‘আগুনের ভয়াবহতা অনেক। আমার জন্য দোয়া করিস।’ এর কিছুক্ষণ পর তার লাইভ বন্ধ হয়ে যায়। মুহূর্তেই মুঠোফোনের পর্দা অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর আর ইয়াছিনের খোঁজ মেলেনি।’
ডিএনএ পরীক্ষায় ইয়াছিনের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার ডিপোর কর্মকর্তারা বদিউল আলমকে ফোন করে ছেলের লাশ বুঝে নিতে বলেন। ফোন পেয়ে বুধবার ভোরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সীতাকুণ্ডে রওনা হন বাবা বদিউল। বেলা সোয়া ১টায় ডিপো কর্তৃপক্ষ তাকে ছেলের লাশের কফিন বুঝিয়ে দেয়।
বদিউল আলম বলেন, অনেক আগেই ছেলেকে জীবিত পাওয়ার আসা ছেড়ে দিয়েছেন। কয়েক দিন আগেও ছেলের খোঁজে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। তখন জানানো হয়, আরও কয়েকটি লাশ আছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে জানানো হবে।
তিনি বলেন, ‘পারিবারিক কবরস্থানে ছেলের কবর হবে—এটাই এখন সান্ত্বনা।’