× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সোমালিয়ায় জিম্মি জাহাজ

‘এবার আমাদের ঈদ বলে কিছু নেই’

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৪ ১৩:০১ পিএম

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪ ১৩:১২ পিএম

আইয়ুব খান। ছবি : সংগৃহীত

আইয়ুব খান। ছবি : সংগৃহীত

ঈদ নিয়ে থাকত কত পরিকল্পনা। ভাইবোন সবাই একসঙ্গে হওয়া। একসঙ্গে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করা। প্রতি বছর এমন হাসি আনন্দে কাটত ঈদ। কিন্তু এবার পরিবারটিতে ঈদের সেই আমেজ নেই। একদিকে পরিবারের মুরব্বিকে হারানোর শোক, অন্যদিকে পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলেটি সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি। এ দুই ঘটনায় ঈদের আমেজ ফিকে হয়ে গেছে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি এমভি আব্দুল্লাহর ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খানের পরিবারের। 

জানতে চাইলে আইয়ুব খানের বড় ভাই ওমর ফারুক রাজু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেড় মাস আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আমার বাবা মারা যান। এরপর মাস না পেরোতে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ছোট ভাই জিম্মি। ওর চিন্তায় আম্মু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সব মিলিয়ে আমরা একটা কঠিন সময় পার করছি। তাই এখন ঈদ বলে আমাদের কাছে কিছু নেই।’

তিনি আরও বলেন, তখন ঈদের সময় সবাই বাড়িতে আসত। ভাইয়েরা মিলে বোনের বাড়িতে যেতাম। বোন আমাদের বাড়িতে আসত। সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হতো, অনেক আনন্দ হতো। এখন কোনো আনন্দ নেই। এখন ঘরজুড়ে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা।’

শুধু আইয়ুব খান নন, একই অবস্থা বিরাজ করছে জিম্মি অন্য নাবিকদের পরিবারেও। এমভি আব্দুল্লাহর জিম্মি ২৩ নাবিকের কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এবার তাদের কাছে ঈদ বলে কিছু নেই। প্রিয়জন জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ায় পরিবারের মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এমন ঈদ তাদের জীবনে আর কখনও আসেনি।

এর আগে গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে জাহাজ থেকে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়েছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। এর পরপরই জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় জাহাজটি। এরপর সেখান থেকে ১৪ মার্চ  ‍দুপুর ২টার দিকে জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দুই দফায় সরিয়ে জাহাজটি সোমালিয়ার প্যান্টল্যান্ড এলাকার সমুদ্র উপকূলে নোঙর করা হয়। বর্তমানে জাহাজটি উপকূলের কাছেই নোঙর করা রয়েছে। ওই জাহাজে ২৩ জন নাবিক রয়েছেন, আইয়ুব খান তাদের একজন। 

আইয়ুব খানের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামে। চার ভাইবোনের মধ্যে আইয়ুব সবার ছোট। গত জানুয়ারি মাসে আইয়ুব খান কেএসআরএম গ্রুপের এসআর শিপিং লাইনের মালিকানাধীন এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজে ইঞ্জিন ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। 

আইয়ুব খান সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ায় ভেঙে পড়েছেন তার মা হুমায়রা বেগম। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইয়ুব খানের বড় ভাই ওমর ফারুক রাজু বলেন, মা আগে থেকেই একটু অসুস্থ ছিলেন, এখন আরও ভেঙে পড়েছেন। কখন কান্নাকাটি করেন। কখনও নামাজ পড়েন, কুরআন তেলাওয়াত করেন। এভাবেই কাটছে উনার দিন।

তিনি আরও বলেন, বাবা মারা যাওয়ার কিছুদিন আগেও ছোট ভাই দেশে ছিল। তখন সবাই বাড়িতে ছিলাম। ও ক্যাপ্টেনের জন্য হাঁস কিনেছিল। আমরা সবাই রায়পুর গিয়ে হাঁস কিনে এনেছি। বাসায় রান্না করে সবাই খেয়েছি। বাবা ছিলেন, ছোট বোনও আমাদের বাড়িতে ছিল, সবাই মিলে অনেক মজা করেছি। এখন বাবাও নেই, ছোট ভাই সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি। সবকিছু এখন অন্যরকম হয়ে গেছে। আমাদের পরিবারে এবার ঈদ বলে কিছু নেই।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন এমভি আব্দুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ খানের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ খান আসিফ। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘পরিবারের কেউ যদি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকে, তাহলে পরিবারের অন্যরা কি স্বাভাবিক থাকতে পারে। এখন আমাদের পরিবারেও সেটা নেই। সবার মাঝে ভাইয়াকে নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তাই সামনে যে ঈদ সেটি নিয়ে আমাদের মধ্যে বাড়তি কোনো আনন্দ নেই।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা