× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে ব্যাংক ডাকাতি!

এস এম রানা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৪ ০১:০৩ এএম

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪ ১১:০১ এএম

আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে ব্যাংক ডাকাতি!

বান্দরবানের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করতে পাশের দেশ মিয়ানমারের সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে চায়। এই অস্ত্র দিয়ে পাহাড়ে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সংগঠনটির। আর মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত আরাকান আর্মির টাকার দরকার। তারা নানা কৌশলে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যসহ রসদ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কেএনএফের অস্ত্র-গুলি ও আরাকান আর্মির রসদ কেনার অর্থ প্রয়োজন। দুই গ্রুপের দুই ধরনের প্রয়োজন মেটাতেই কেএনএফ বান্দরবানের রুমায় ব্যাংক ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নূরে আলম মিনা সে কথাই বলেছেন স্পষ্ট করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের রুমা শাখা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অল্প সময়ে বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায় কেএনএফ।’ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর অল্প সময়ে বড় অঙ্কের টাকা কেন দরকার? সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

শান্তি আলোচনার মধ্যে থেকে সশস্ত্র সংগঠনটি কেন ব্যাংক ডাকাতি, অপহরণ ও অস্ত্র লুটের মতো ঘটনায় জড়াল সে বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান পর্যায়ে একাধিক সম্ভাব্য কারণ সামনে রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনেকগুলো সম্ভাব্য কারণের একটি হলো আরাকান আর্মির কাছ থেকে কেএনএফের অস্ত্র কেনার চেষ্টা। তবে অস্ত্র কেনার সম্ভাব্য কারণ বা সন্দেহের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী- অস্ত্রলুট, অপহরণ ও ব্যাংক ডাকাতির পর সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। যেটুকু ছাড় দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ছিল, সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণেই শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বড় ধরনের অভিযানের বিষয়েও আলোচনা চলছে। সংলাপ স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা।

পুলিশ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে মন্তব্য না করলেও গতকাল একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপকালে ঘটনা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এভাবে, মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী লড়াই করছে আরাকান আর্মি। সেখানে তাদের খাদ্য-জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় রসদ প্রয়োজন হচ্ছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের ইনানী উপকূল দিয়ে কিছু রসদ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে আরাকান আর্মি। বাংলাদেশ থেকে রসদ কিনতে বাংলাদেশি মুদ্রা প্রয়োজন। 

আবার কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করে চলেছে। সংগঠনটি সর্বশেষ গত ৫ মার্চ শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সঙ্গে আলাপ করেছিল। আগামী বৈঠকের কথা ছিল ২২ এপ্রিল। এরই মধ্যে গোয়েন্দা মাধ্যমে পুলিশ জেনেছে, কেএনএফের কিছু সদস্য সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রয়েছেন। অন্য একটি পক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার পর একটি অংশ আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র-গুলি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। এ কারণে কেএনএফের টাকার প্রয়োজন। ফলে শান্তিকামী অংশকে না জানিয়েই তারা ব্যাংক ডাকাতি, অস্ত্র লুট ও অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। 

বলা হচ্ছে, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এখনও অরক্ষিত। সেখানে উভয় দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করে। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান হয়। অরক্ষিত সীমান্ত ব্যবস্থার কারণে দুই দেশের দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়মিত যোগাযোগ আছে। এ কারণে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে গত বুধবার কেএনএফের চেয়ারম্যান নাথান বমের উপদেষ্টা লাল এং লিয়ান বম সংগঠনে বিভক্তি তৈরির বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি। আর আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে কেএনএফ ব্যাংক লুটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে গতকাল একাধিক দফায় কেএনএফের সাধারণ সম্পাদক লালজংময়কে ফোন করা হয়। তিনি সাড়া দেননি। অবশ্য গতকাল সারা দিনই কেএনএফের কোনো পর্যায়ের নেতা বা সদস্য ফোনে সাড়া দেননি। তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ পাঠালে সেগুলো তারা সিন করছেন, কিন্তু উত্তর দেননি। আগের ঘটনায় কেএনএফ বিবৃতি প্রকাশ করত, এবার এখন পর্যন্ত বিবৃতি প্রকাশ করেনি। 

শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখে। বুধবার রাতেই কেএনএফকে বার্তা পাঠানো হয়, ‘কাজটি ভালো হয়নি।’ গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংলাপ স্থগিত বলে জানানো হয়। বুধবার রাত থেকেই ব্যাংক ম্যানেজারের পরিবারের সঙ্গে অপহরণকারীদের যোগাযোগ হয়েছে বলে তথ্য মেলে। পারিবারিক পর্যায়ে আলাপ করে ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুমা বাজারের কাছ থেকে র‌্যাব তাকে উদ্ধার করে। সমঝোতার ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় বলে র‌্যাব জানায়। 

বান্দরবানে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে কেএনএফ। পাহাড়ে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে গেলে এ পর্যন্ত প্রাণক্ষয় হয়েছে ১৭ জনের। অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণের জন্য জঙ্গিদের ডেরা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ আছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় একপর্যায়ে রাষ্ট্র শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করে। আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। আর কেএনএফের পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান নাথান বমের উপদেষ্টা লাল এং লিয়ান বম। শুরুতে ভার্চুয়ালি সভা হলেও পরে দুই দফা সরাসরি বৈঠক হয়। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সভা অত্যন্ত সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে বলে নিশ্চিত করে উভয় পক্ষ। সেই সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হঠাৎ কেন সহিংসতার পথে হাঁটল তারা এমন প্রশ্নের উত্তর গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা