মিয়ানমার সংঘাত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৪ ১৫:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৪ ১৬:৪০ পিএম
টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত। ফাইল ছবি
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্রতর হয়ে উঠেছে। সীমান্তের ওপারে একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে সীমান্তের এপারে। এনিয়ে সীমান্তে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সীমান্ত এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এরপর আবার আজ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শোনা গেছে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ।
টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, সেন্টমার্টিন, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে চলছে এ যুদ্ধ। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কোওয়ারবিল, নাকপুরা, বলিবাজারসহ আশপাশের এলাকা ঘিরে চলছে এই যুদ্ধ।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকার বাসিন্দার মো. কালা বলেন, ‘যেভাবে হঠাৎ মিয়ানমারের ওপারে থেমে থেমে বোমার বিস্ফোরণ হচ্ছে। এরকম শব্দ কোনোদিন শুনি নাই। মনে হয়েছে, আমার বাড়ি ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। আতঙ্কে ঘুমাইতে পাচ্ছি না।’
টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী এলাকার বাসিন্দার আবুল বলেন, ‘আজ সকাল ৭টা ২০ মিনিটের সময় কিসের শব্দ বুঝতে পারি নাই। পুরো বিল্ডিং কেঁপে উঠছে।’
হ্নীলা ইউনিয়ন ওয়াব্রাাং এলাকার বাসিন্দার মোহাম্মদ কামাল জানান, ফজরের নামাজের পর থেকে মিয়ানমার ওপারে যেভাবে মর্টার শেলের শব্দ হয়েছিল। মনে করেছিলাম ভূমিকম্পে বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে। বজ্রপাতের মতো বিকট শব্দ হচ্ছে।
শাহপরীরদ্বীপের বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, ‘মিয়ানমার ওপারে এমন বিকট শব্দ হয়েছে পুরো এলাকা কাঁপছে। এমন বিকট শব্দ আগে কখনও শুনিনি। গভীর রাতে মিয়ানমারের গোলাগুলির শব্দে বাড়ির ভেতর পর্যন্ত থাকা যাচ্ছে না। রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত শতাধিক বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে মর্টার শেল নিজের বাড়ির ত্রিসীমানায় বিস্ফোরণ হচ্ছে।’
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ জানান, যেহেতু মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কম। তাই আমরা তাদের গোলাগুলির শব্দে ঘুমাতে পারছি না। সদরের মৌলভী পাড়া, নাজির পাড়া, খানকার ডেইল, বরইতলী ও কেরুনতলীসহ এ এলাকাগুলো নাফনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকা।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি, ওপার থেকে রোহিঙ্গারা এপারে আসার জন্য জড়ো হয়ে আছে। নৌঘাট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও সজাগ রয়েছি।’
সীমান্তের একাধিক সূত্রের দেওয়া খবর অনুযায়ী, গত রবিবার থেকে সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হামলা বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। সোমবার সন্ধ্যায় মংডু টাউনশিপের কাছাকাছি অবস্থিত মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) একটি ক্যাম্প আরাকান আর্মি দখল করে নেয় বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে মংডু টাউনশিপের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশের রাচিডং টাউনশিপসহ ১০টির বেশি থানা দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি।
মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘রাখাইন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদ ও সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।’